বাংলাদেশ

ডা. আব্দুন নূর : এক শহীদের কাহিনি

প্রকাশিতব্য ‘মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখা’ গ্রন্থের অংশবিশেষ শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় বধ্যভূমিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন দৌলতপুর গ্রামের ডা. আব্দুন নূর। অগ্রসর চিন্তার মানুষ ডা. আব্দুন নূর (নুনু মিয়া নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন) ছিলেন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক! সমাজকর্মী হিসেবে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি বিভিন্ন কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। গ্রামে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য সরবরাহ করতেন।স্থানীয় রাজাকার চক্র তার ওপর কড়া নজর রাখতো এবং গতিবিধি অনুসরণ করতো। রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণেই রাজাকারেরা সন্দেহপ্রবণ ছিল ডা. নূরের উপর। পরিস্থিতি বিপদজনক হলেও দেশপ্রেমের কারণে ডা. নূর কর্তব্যে পিছু হটেননি। সারাক্ষণ রাজাকারদের দৃষ্টি এড়িয়ে সাহায্য করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের। শেষ রক্ষা অবশ্য তাঁর হয়নি।মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট লেখা তার একটি চিঠি ফাঁস হয়ে যায় জুলাই মাসের মধ্যভাগে। রাজাকাররা ডা. আব্দুন নূরকে ধরে নিয়ে যায় শাহবাজপুর পাক-ক্যাম্পে। ইতোপূর্বে একবার তিনি গ্রেফতার হয়েও ভাগ্যক্রমে রেহাই পেয়েছিলেন। আগের অপরাধের চেয়ে এবারের অপরাধ গুরুতর। ডা. নূর উপলব্ধি করলেন মৃত্যু তার সামনেই। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এ মানুষটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার মতো মৃত্যুকে বরণের জন্য প্রস্তুত হলেন। নির্যাতন শুরু হলো। ক্ষত-বিক্ষত হলেন তিনি। কোনো তথ্য ফাঁস করতে রাজি না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হল তার জন্য। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তিনি ছিলেন অবিচল।শাহবাজপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিমউত্তর কোণে টিলার নিচে কোমর সমান মাটির গর্তে তাকে নামানো হলো।
হানাদারদের গুলিতে মুহূর্তে বিদীর্ণ হয়ে গেলো তার বুক। গর্তের মধ্যেই লুটিয়ে পড়লো নিথর দেহ।পাকসেনারা এ গর্তেই মাটিচাপা দেয় তাকে।

ডা. নূরহত্যার নেপথ্যে সক্রিয় রাজাকাররা,কেউই তার অজানা কিংবা অচেনা নয়। প্রতিবেশী গ্রামবাসীর মতো তার সাথে বেড়ে উঠেছিলো এসব শ্বাপদ।

আজ জাতির এইবশ্রেষ্ঠ সন্তানের ৪৯ তম মৃত্যু বার্ষিকী! আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন,আমিন!

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close