বাংলাদেশ

সিলেটে ঈদুল ফিতরের নামাজ নিয়ে এসএমপি’র বেশ কিছু কড়াকড়ি নির্দেশনা

চলমান বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ এর গ্রাফ। সারাদেশে এর মধ্যে শুরু হয়েছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিক সংক্রমণ। সামনে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস রমজান মাসে রোযা রেখে ঈদের দিন মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে শুকরিয়া আদায় করেন মুসলমানরা। সাধারণত এই নামাজ আদায় করা হয় ঈদগাহে। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে ঈদগাহে নামাজ না আদায় করার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এবার ঈদের নামাজ পড়তে হবে মসজিদে। তবে সেক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা মানতে হবে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) দিয়েছে বেশ ১৩ টি স্বাস্থ্যবিধি মূলক নির্দেশনা। এগুলো মেনে প্রত্যেক মসজিদে পড়তে হবে ঈদুল ফিতরের নামাজ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে এসএমপি।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায় প্রসঙ্গেঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে সিলেট মহানগরবাসীকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং বৈশ্বিক মহামারী করোনা (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে প্রেরিত নির্দেশাবলি অনুসরণপূর্বক নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে সিলেট নগরবাসীকে ১৪৪১ হিজরি/২০২০ সালের পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হলো।
১. বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারনে মুসল্লীদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে ।
২. ঈদের নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লীগন প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জীবানুমুক্ত করে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
৩. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
৪. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।
৫. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৬. ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক এবং নিজস্ব টুপি পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
৭. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে।
৮. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।
৯. শিশু, বায়োবৃদ্ধ, যে কোন অসুস্থ্য ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
১০. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
১১. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরষ্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
১২. করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়ার করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। এবং
১৩. সম্মানিত খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

পুলিশকে তথ্য দিন এবং প্রয়োজনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তা নিন। এসএমপি কন্ট্রোল রুম (০৮২১-৭১৬৯৬৮, ০১৭১৩-৩৭৪৩৭৫, ০১৯৯৫-১০০১০০) সার্বক্ষনিক (২৪/৭) আপনার সেবায় নিয়োজিত। আপনার আকস্মিক বিপদের মুহুর্তে ৯৯৯ নম্বরের সহায়তা নিন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close