বাংলাদেশ

সাহায্য আমাদের প্রয়োজন তাই বলে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়

আমার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিস্টানে স্বল্প বেতনে চাকরী করেন ।মা একটি বুটিক শপে কাজ করেন।বাবা মা এবং ২ ভাই বোনের সংসার আমাদের।আমরা দুই ভাই বোন টিউশনির টাকায় নিজেরা চলি।নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার আমাদের ,কিন্তু সম্মানটা অনেক বড়,কখনো কারো কাছে হাত পাততে হয় নি।হঠাৎ করোনা ভাইরাস আক্রমন হলো দেশে।বাবার অফিস বন্ধ,মা যেই বুটিক শপে কাজ করতেন সেটা বন্ধ ।আমাদের টিউশনিও বন্ধ।আগামী মাস কীভাবে চলবো জানি না।

তারপর একদিন দেখলাম বাবা কিছু চাল,ডালের একটা প্যাকেট নিয়ে এসেছে।বললো স্থানীয় কিছু ছেলে মেয়েরা হাতে দিয়ে গেছে।কী জানি একটি সামাজিক সংঘঠন থেকে।বেশ খুশি হলাম আমরা যাক আপাতত ৩/৪ দিনের চিন্তা নাই ।

ফেসবুকে ঢুকে দেখি একটা ছবি।আমার বাবার হাতে কিছু খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে ,ছবিটা এইরকম এরকম বেশ ৫০/৬০ টা ছবির এলবাম বানিয়ে আপ্লোড করা হয়েছে।সবসময় মাথা উঁচু করে চলা আমার বাবা মাথা নিচুঁ করে নিচ্ছে খাবারের প্যাক্যেটটা ।কখনো কারো কাছে হাত না পাতা আমার পরিবার সাহায্য নিচ্ছে নিতান্তই জীবনের তাগিদে।ছবিটা দেখে ডুকরে কেদেঁ উঠতে ইচ্ছা করলে কিন্তু কাঁদলাম না আমি।তাদের জন্য দেয়া করে দিলাম।কস্টটা একেবারেই গিলে খেয়ে ফেলার চেস্টা করছিলাম কিন্তু পারলাম না।আমার বাবার নত মুখটা মাথায় ঘুরছিলো বারবার ।শুধু ভাবছিলাম ছবিটা তো এভাবেও তেলা যেতে যেনো আমার বাবার নত মুখটা মেয়ে হয়ে আমার না দেখতে হয়।

আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত,এই সময়ে সাহায্যও আমাদের প্রয়োজন ।তাই বলে বাবার নত মুখ দেখে নয়,আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়। শুধু সম্মানের সাথে বাচঁতে চেয়েছিলাম একটু .. ।নিজের লেখা একটি শোনা কাহিনী।

লিখেছেন: ওয়াকিল কোরেশী

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close