মুক্তমঞ্চ

রাজনৈতিক ছবি আর ছবির রাজনীতি নিয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে

গত নির্বাচনের পর যখন ১ম মন্ত্রিসভা হলো তখন দেখলাম, আমি একেবারে কোন চার্জ ছাড়া এক ভদ্রলোকের (গতবারের প্রতিমন্ত্রী) কিছু নির্বাচনী কাজ করে দিই, কাজ গুলি ওনার খুব ভালো লাগে এবং উনি বললেন ওনার কাজেও লেগেছে। উনি বিশাল এক দপ্তরের মন্ত্রী হয়ে গেলেন। আমি যথারিতী একটা কল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালাম ওনার ফোনে আমার নাম্বার সেভ করা আছে দেখে খুশি হলাম। মন্ত্রী সাহেব বললেন আমার জন্য ওনার কাছে একটা গিফ্ট আছে একদিন সময় করে যেয়ে নিয়ে আসতে। ওনার অফিসের সামনে দিয়ে আমি প্রতিদিন ০২ বার বাসা – অফিস আসা যাওয়া করলে ও তিন মাস পর আমি ওনার সাথে একটা ফুলের বড় বুকে নিয়ে দেখা করতে গেলাম, দেখে উনি খুব খুশি হলেন – এতদিন পর আসার কারন জিগ্যাস করলেন, চা নাস্তা করালেন। চলে আসার সময় ওনার হাতে ফুলের বুকে টা তুলে দিতেই উনি ছবি তোলার জন্য পোজ দিলেন ! আমার সাথে বন্ধু ফরিদ থাকলে ও উনি যখন দেখলেন কেউ ছবি তুলছে না তখন একটু অবাক হয়েই জিগ্যাস করলেন ছবি তুললা না ?
আমি বললাম কেন ছবি তুলবো স্যার ?? আপনি আমাকে চিনেন – উনি বললো হাঁ চিনি। আমার নাম্বার আপনার ফোনে আছে – বললেন হাঁ আছে। ০৫ বছর পর আসলে আমাকে চিনবেন – বললো অবশ্যই চিনবো। তা হলে আমি ছবি তুলে কি করবো ! উনি খুব অবাক হলেন ! বললেন যদি কখনো কোন প্রয়োজন হয় ওনাকে যেন অবশ্যই জানাই। প্রয়োজন অনেক হয়েছে কিন্তু গত ০২ বছরে ওনাকে আর কল করা হয় নি।

একজন খুব প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী-নির্ভেজাল, মার্জিত, ভদ্র মানুষ। আমাকে ছোটভাই বলে। মন্ত্রী হওয়ার পর আমি ওনার বাসায় অনেক বার গেছি কিন্তু ওনার সাথে দেখা হয়েছে হাতে গোনা চার – পাঁচ বার। একদিন উনি সংসদের অধিবেশন শেষ করে বের হচ্ছিলেন আর আমি তখন সংসদের মুল ক্যাম্পস ক্রস করছিলাম, একেবারে মুখামুখি হয়ে যাওয়ায় আমি হেঁসে সালাম দিলাম, জোর করে টেনে আমাকে গাড়ী তে তুলে নিলেন। জিগ্যাস করলেন বাসায় যাই না কেন ? বললাম বাসায় যেয়ে কি করবো? বললেন দেখা সাক্ষাত, বললাম স্যার দেখা করতে তো মেলা মানুষ আসে আপনার কাছে, মাঝে মধ্যে না কি রাত ০১ -০২ টা ও বেজে যায় মানুষের সাথে দেখা করতে করতে ! উনি হেঁসে বললেন ওরা তো মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যায়- তুমি তো আমার সাথে দেখা করতে যাবা। বললাম আপনার বাসায় যাওয়া হয়েছে দুই তিন বার কিন্তু আপনার সাথে দেখা হয় নি ! উনি ক্ষেপে বললেন কেন অফিসের ওরা কি তোমাকে দেখা করতে নিষেধ করেছে, বললাম না, এত মানুষ দেখে নিজেই চলে এসেছি। উনি বললেন ও আচ্ছা – কত মানুষ আসে প্রতিদিন দেখছো ? বললাম স্যার অনেক মানুষ সমস্যা না, সমস্যা হলো দুই তিন টা মানুষ আপনার ঐ খানে প্রতিদিন আসে কিন্তু ওদের সুবিধা মনে হলো না, একটু সাবধানে প্লিজ, এরা সুযোগ পেলে ঝামেলা বাঁধাবে। যে দুই জনের ব্যাপারে আমি মন্ত্রী কে সাবধান করলাম ঐ খানের একজন আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিলে আমি একসেপ্ট করে দেখি আমার প্রিয় প্রতিমন্ত্রীর সাথে তার হাজার খানেক ছবি !! এর দুই মাস পর সময় টিভির প্রতিবেদনে বের হলো সে সাতক্ষিরা না কোন এলাকার সাবেক শিবির সভাপতি, নাম পরিবর্তন করে ঢাকায় নিজেকে ওলামালীগ নেতা বলে পরিচয় দিয়ে চাকুরি দিবে বলে মানুষের থেকে কোটি চার পাঁচের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তিন টা বিয়ে করেছে, ইত্যাদি ইত্যাদি !!

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়গন আপনাদের অনেক মানুষ দরকার আমরা জানি, কিন্তু দয়াকরে মন্ত্রী হওয়ার পর যে মানুষ গুলির সাথে পরিচয় হয়েছে আল্লাহর দোহাই লাগে তাদের পরিচয় একটু যাচাই বাছাই করে তবে ই ফটোসেশন কইরেন। আপনার এই জনসংযোগ-এই ফটোসেশন যে অনেক মানুষের মৃত্যুর কারন হতে পারে মনে হয় রিজেন্টের শাহেদ কে দেখার পর তাতে আর কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। আমাদের প্রতি একটু রহম করুন, বেঁচে থাকলে আবার বিপদের সময় আপনাদের ই কাজে লাগবো !!

লেখকঃ সাখাওয়াত জাকী,
বিপণন ও রাজনৈতিক পরামর্শক।

Show More
Back to top button
Close
Close