আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিল শুধুই বাড়ছে

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত বিশ্বজুড়ে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে সর্বপ্রথম শনাক্ত হয় করোনা ভাইরাস। সেসময় কে-ই ভেবেছিল চারমাস পর এতটা তান্ডব চালাবে অদৃশ্য ভাইরাসটি।

এখন পর্যন্ত মহামারী ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া দিনদিন শুধুই বেড়ে চলেছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ৫ হাজার ৭৮৭ জন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার মানুষ। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় গত ২৪ ঘন্টায়ও সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

গত ২৪ ঘন্টায় কোভিড নাইন্টিনে নাজেহাল হওয়া দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩৫০ জন। এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার। এখন পর্যন্ত মহামারী ভাইরাসে মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে ৭২ হাজার ২৭১ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ লাখ ৩৭ হাজারে দাড়িয়েছে।

দেশটিতে করোনার কাছে কোণঠাসা হওয়া নিউইয়র্কে মারা গেছেন। তবে এখম ধীরে হলেও কমছে মৃত্যুর সংখ্যা। নতুন করে মারা গেছেন ২৬০ জন। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে।রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ লাখ ৩০ হাজার।

অ্যান্ড্রু কুওমো বলেছেন, সংক্রমণের হার কতোটা দ্রুত কমে যায় তার মাধ্যমে আমরা শীঘ্রই লকডাউন শিথিল করার হবে তা নির্ধারণ করা হবে। এসময় তিনি বলেন, গভর্নররা খুব দ্রুত আবারও পুরোনো রূপে চালু করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশিত করোনা ভাইরাস মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

তিনি জানান যে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে ১৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুর্লভ এক রোগে।

করোনার ফলে ধস নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। মার্চ মাসে মার্কিন রফতানি প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে, করোনা ভাইরাস মহামারী হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪.৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

এদিকে ইতালিকে ছাড়িয়ে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু তালিকায় শীর্ষে ব্রিটেন। ধারণা করা হচ্ছে ইউরোপে করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে ব্রিটেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিবে সংকট সামাল দেওয়া।

গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৬৯৩ জন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৪ হাজার মানুষ। এই নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯০ জনে। আর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯ হাজার ৪২৭ জনে।

এই পরিস্থিতিকে একটি বিশাল ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন,

আমি কেবল এতটুকুই বলব, প্রথমত, ২৯ হাজার মানুষের প্রাণ হারিয়ে যাওয়া একটি বিশাল ট্র্যাজেডি, এদেশে এই মাত্রায় আমরা এর আগে কখনো এই দৃশ্য দেখিনি।

ব্রিটেনের অফিস অফ ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) এর সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান বলছে ২৪ এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে ৭ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে, এরফলে যুক্তরাজ্যের মোট সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ব্রিটেন ও আমেরিকা এক যৌথ সতর্কবাণীতে জানিয়েছে, নতুন করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য চুরি করতে হ্যাকাররা স্বাস্থ্যসেবা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এ বিষয়ে এখন খুবই লক্ষ্য রাখছে বলে জানানো হয়।

মহামারী করোনা ভাইরাসে প্রকোপ ঠেকাতে অন্যতম সফল দেশ জার্মানিতে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন কোনো মৃত্যু নেই। আক্রান্ত মাত্র ৮৫৫ জন।ধীরে ধীরে মৃত্যু ও সংক্রমণ কমছে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোতে।

করোনা নিয়ে নিয়মিত তথ্য উপস্থাপন করা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্ব জুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ২ লাখ ৫৮ ৪৮১ জন।আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৪০ হাজারের দাড়িয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ১২ লাখের বেশি মানুষ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close