আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকিতে বেশি বাংলাদেশিসহ কৃষাঙ্গরা

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস। কে জানতো এতটা ভয়ানক এই অদৃশ্য ভাইরাস। প্রতিদিনই যেকোনো জাত-পাত এর মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। ব্যতিক্রম নয় যুক্তরাজ্যে, ইউরোপের মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি এখন দেশটিতে। তবে ব্রিটেনে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে শেতাঙ্গদের চেয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে কৃষাঙ্গ কিংবা বাংলাদেশি-পাকিস্তানি ও ভারতীয়রা।

সিএনএনের খবরে উঠে এসেছে এমন তথ্য। ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্টাটিস্টিকসের (ওএনএস) পরিসংখ্যান তুলে ধরে এমন আশংকা করছে।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুসারে যুক্তরাজ্যের কৃষ্ণাঙ্গদের কোভিড নাইন্টিনে শেতাঙ্গদের চেয়ে চারগুণ বেশি মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর ঝুঁকিও বেড়েছে।

অফিস অফ ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে কালো মহিলারা (ক্যারিবিয়ান, আফ্রিকান এবং অন্যান্য কালো) সাদা মহিলাদের তুলনায় কোভিড নাইন্টিনে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ৪.৩ গুণ বেশি, এবং কালো পুরুষদের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪.২ গুন বেশি।

এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে ব্রিটেনে দেড় শতাধিকের মতো মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। আর তাই স্বাভাবিক ভাবেই ঝুঁকি থেকে যায় বাংলাদেশিদের নিয়ে। তাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশী, পাকিস্তানি, ভারতীয় এবং মিশ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকদেরও মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আফ্রিকান আমেরিকানরা কোভিড নাইন্টিনে বেশি হারে মারা গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসছে।

শিকাগোতে, করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া ৭২ শতাংশ লোক কৃষাঙ্গ ছিল। শহর কর্তৃপক্ষ এপ্রিল মাসে বলেছিল, আফ্রিকান আমেরিকানরা শহরের জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ। লুইসিয়ায় আফ্রিকান আমেরিকানরা জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ, তবে মৃত্যু প্রায় ৭০ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি প্রবাসীদের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যাটা আড়াই শ’র মতো। এর মধ্যে নিউইর্য়কে মারা গেছেন অর্ধেকের বেশি মানুষ।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপিয়ান অঞ্চলের পরিচালক জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে লকডাউনে ঘরবন্দী মানুষ। আর তাই সময়ে বাড়ছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব। ইউরোপে সবচেয়ে বেশি নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

যদি লকডাউন ছয় মাস অব্যাহত থাকে, বিশ্বজুড়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার আরও ৩১ মিলিয়ন সহিংসতার আশংকা করা হচ্ছে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অফিসের প্রধান ড. হ্যানস ক্লুজে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে ঘরোয়া সহিংসতার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ডব্লিএইচও গভীর উদ্বেগিত।

ড. হ্যানস ক্লুজে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কয়েকটি দেশ জানিয়েছে যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী গৃহকর্মী সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, গত বছর শেষের দিক থেকে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় সহিংসতার হটলাইনে কল পাঁচ গুণ বেড়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close