আন্তর্জাতিক

বাজে প্রশ্ন অ্যাখা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন ছাড়লেন ট্রাম্প

করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন…। নতুন করে এই সময় আক্রান্ত হয়েছেন…. । এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নজরদারির আহবান জানিয়েছে।

সোমবার ডব্লিওএইচও বলেছে, সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মধ্যে নতুন করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে দেশগুলো যখন লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে তখন চরম নজরদারি দরকার ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরী প্রোগামের বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান বলেছেন, অনেক দেশ এই লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার কারণে এখন আমরা কিছুটা আশা দেখছি। তিনি বলেন, যদি ক্লাস্টারদের তদন্ত করার সম্ভাবনা ছাড়াই এই রোগটি নিম্ন স্তরে অব্যাহত থাকে। তবে ভাইরাসটি আবার বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারী বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখভ বলেন, আশংকাজনক ভাবে স্বাস্থ্যক্ষমীরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিছু দেশ রিপোর্ট দিয়েছে ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

মহামারী এখনো শেষ হয়নি বলে সতর্ক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেরবাইয়াসস বলেছেন, বিশ্বের বেশিরভাগ লোক এখনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি না করায় সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায় সারা বিশ্বে ১১০ টি ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজ চলছে। সম্ভাব্য আটটি যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য ও চীনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে। এছাড়া ১০২ টি প্রাক-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে।

চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতির শিকার যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে প্রাণঘাতি ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অন্যদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা। থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে বৃহত্তম দেশটি। ৩৩ মিলিয়নের বেশি মানুষ বেকারত্বের খাতায় নাম লেখিয়েছেন। এই সংখ্যাটি আরো বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া এবছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে।

গত ২৪ ঘন্টায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে মারা গেছেন ১ হাজার ৮ জন । এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার। এই নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ লাখ ৮৫ হাজারে। কোভিড নাইন্টিনে মৃত্যু হয়েছে ৮১ হাজার ৭৯৫ জনের । যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি নাজেহাল পরিস্থিতি হওয়া নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নতুন মৃত্যু ১৯১ জনের, মোট এই সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়িয়েছে।

নিউইয়র্কে গর্ভনর বলেছেন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি কমেছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি অভিহিত করে অ্যান্ডু কুমো বলেন, প্রাণ হারানোর সংখ্যা এখনো অনেক বেশি। তবে এই সংখ্যা আগের চেয়ে ভাল। কুমো বলেন, আমার দৃষ্টিতে আমরা পাহাড়ের অপর প্রান্তে রয়েছি। আমরা যা করেছি তার দ্বারা আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে গেছি এবং এখন আমরা বুদ্ধি করে আবার খোলার দিকে যেতে পারি। আমরা সবাই কাজ ফিরে পেতে উদ্বিগ্ন। আমরা এটি স্মার্টভাবে করতে চাই। আমরা এটি বুদ্ধি করে করতে চাই। এদিকে নিউইর্য়কের মেয়ড দি ব্লেসিও জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে স্কুল খুলতে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের রোজ গাডেনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে বাক বিনিময় করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিবিএস নিউজের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি বলেছেন অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র করোনা পরিক্ষা ভালো করছে। এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না, চীনকে জিজ্ঞাসা করুন। একই সাথে এটিকে বাজে প্রশ্ন অ্যাখা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৮০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। অথচ ট্রাম্প করোনা পরিক্ষাকে একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা পরিণত করেছেন? জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না। চীনকে সেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। ঠিক আছে?

এই সময় চীন নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বলে জানান ট্রাম্প। এদিকে হোয়াইট হাউসে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করেছেন ট্রাম্প। যদিও নিজে মাস্ক পড়বেন না।

মহামারী করোনা ভাইরাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি হওয়া যুক্তরাজ্যে কমেছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ২১০ জন। এই সময় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮শ’র বেশি মানুষ। এর ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২ লাখ ২৩ হাজারে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩২ হাজার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশটিতে লকডাউন সহজ করার পরবর্তী রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, গণ পরিবহনে মাস্ক পড়তে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে নতুন বার্তা সতর্ক থাকুন এর ব্যাখায় বলেন, যদি সবাই সতর্ক থাকি এবং নিয়ম গুলো অনুসরণ করে তবে আমরা করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। ভাইরাস মোকাবেলায় ব্রিটেন হিমশিম খাচ্ছে সেই কথা শিকার করে বরিস জনসন বলেন, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আমাদের দেশকে এমন এক চাপের মধ্যে ফেলেছে যা প্রজন্ম ধরে স্মরণ করা হবে। তবে ব্রিটেনের অদম্য চেতনাকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ইউরোপের দেশে কমছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। লকডাউনও শিথিল করা হচ্ছে। ফ্রান্সে সোমবার থেকে শিথিল হয়েছে লকডাউন। প্রাথমিক ধাপে স্কুল খোলা হচ্ছে এবং ৬৭ মিলিয়ন মানুষ সরকারি ছাড়পত্র ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন। ফ্রান্সে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ২৬৩ জন। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ হাজার ৬৪৩ জনে। মহামারীতে তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখা ইতালিতে ধীরে ধীরে কমছে মৃত্যুর মিছিল। নতুন মৃত্যু ১৭৯ জন, এই নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ৭৩৯ জন। করোনার কাছে বিপর্যস্ত আরেকদেশ স্পেনেও কমেছে মৃত্যুর সংখ্যা। নতুন করে মারা গেছেন ১২৩ জন, মোট এই সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ হাজার ৭৪৪ জনে। ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে নতুন মৃত্যু ৯২ মোট মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৬৬১ জন।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের নতুন হটস্পট ধরা হচ্ছে রাশিয়াকে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায়ও আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ইতালি, ফ্রান্সকে। যদিও এখনো মৃত্যুর মিছিল অনেকটা কম। আরেক হটস্পট ব্রাজিলেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা। নতুন করে মারা গেছেন ৫০২ জন। আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৬ হাজার, এইনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৬৯ হাজার। আর মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৬২৫ জনে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী বিশ্ব জুড়ে মহামারী করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ লাখ ৭১ হাজার। আর সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখের বেশি মানুষ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close