আন্তর্জাতিক

বাঙ্কারে লুকিয়ে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পুলিশের হাতে কৃষাঙ্গ এক যুবক মারা যাওয়া আন্দোলনে ফেটে পড়েছে পুরো দেশ। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাসভবন হোয়াইট হাউসের সামনে আন্দোলকারীরা আন্দোলন করতে শুরু করে। আর এসময় পরিস্থিতি ঝুকিপূর্ণ থাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয় এ কথা।

প্রতিবেদনে বলা হয় শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউজের বাইরে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি বিশেষ সুরক্ষিত বাঙ্কারে নেওয়া হয়েছিল।

সোমবার মিনিয়াপলিসে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয় পুলিশের হাতে নির্মমভাবে। এতে করে ওয়াশিংটন ডিসি,নিউইয়র্ক, ক্যালেফর্নিয়া, ফ্লোরিডা সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন শহরে জ্বালাও পোড়াও ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউজের বাইরে জড়ো হয়েছে, হোয়াইট হাউজের একেবারে ঘেরের বাইরে মাঝে মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত

এসময় হোয়াইট হাউসে বিক্ষোভকারীরা যখন একত্রিত হয়ে উত্তাল পরিস্থিতির জন্ম দেয় তখন নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করেছে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা হঠাৎ করে সন্ত্রাসবাদী হামলার সময় অতীতে ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ ব্যাষ্কারে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যায়।

ফ্লায়েডের মৃত্যুর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আলোড়ন সৃষ্টিকারী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহর নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা, ক্যালেফর্নিয়া সহ বিভিন্ন রাজ্যের শহরে শহরে চলছে কয়েক দিনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে সহিংস সংঘর্ষ। ১৩ টি রাজ্যের ২৫ টির মতো শহরে জারি করা হয়েছে কারফিউ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড।এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট্র ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সম্বোধন করেননি বরং বারবার টুইটারে হুশিয়ারী মূলক বার্তা প্রেরণ করেছেন।

দিন-দুয়েক আগে বিক্ষোভকারীদের ‘গুন্ডা অভিহিত করা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার বলেছেন সবচেয়ে দুষ্ট কুকুর দিয়ে তাদের শাস্তি দিবেন তিনি। শনিবার ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
তারা যদি [বেড়াটি ভেঙে] ফেলে তবে তাদেরকে সর্বাধিক দুষ্ট কুকুর এবং সর্বাধিক অশুভ অস্ত্র দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হত। আমি কখনো দেখেছি। লোকেরা আসলেই খুব খারাপভাবে আহত হত কমপক্ষে। তবে তার এমন হুশিয়ারী সমালোচনা ঝড় বইছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষাঙ্গ যুবক হত্যা হওয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার বলেন, মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং জনসাধারণের সদস্যরা নিরস্ত্র আফ্রিকান আমেরিকানদের হত্যার দীর্ঘ লাইনে সর্বশেষতম এটি। মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে এবং তারা যখন ঘটে তখন ন্যায়বিচার হয় তা নিশ্চিত করতে গুরুতর পদক্ষেপ নিতে হবে। যে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ফ্লয়েডকে তাকে দোষী সাবস্ত করে শাস্তি দেওয়ার আহবান জানায় সংস্থাটি।

ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের ওই পারের দেশ যুক্তরাজ্যে, জার্মানিতেও।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close