মুক্তমঞ্চরাজনীতি

বঙ্গবন্ধু ও ছাত্র রাজনীতি এবং ছাত্রসমাজের ভূমিকা (শেষ পর্ব)

যখন বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল, ঠিক তখনই বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটিকে নিভিয়ে দিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হিংস্র হায়নারা অাঘাত হানে। প্রত্যক্ষ মদদ দিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের পরবর্তী বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশের রাজনীতি ভাগ্যাকাশ যে কালো মেঘ গ্রাস করেছিল, সেই মেঘ সরাতে প্রত্যাশার সূর্য হাতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, আমাদের প্রাণের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সেদিন প্রিয় নেত্রীর পাশে ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু অপেক্ষা করে ১৯৮৩ সালে শিক্ষা আন্দোলন ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ১০ দফা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শিক্ষার অধিকার প্রসারে শামসুল হক ও অধ্যাপক কবির চৌধুরীর কমিশনের রিপোর্ট তৈরিতে ছাত্র সমাজের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৮ কোটি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের সুনিপূর্ণ্য কারিগর, বিশ্বজয়ী নেত্রী, বিশ্বশান্তির অগ্রদূত, নারী মুক্তির পথ প্রদর্শক, মাদার অব হাউম্যানেটি, মানবতার মা, দেশরত্ন বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতি মোকাবেলায় পালন করে অগ্রণী ভূমিকা। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে দিনে তিন বেলা নিজ হাতে রুটি তৈরি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সারা রাত জেগে প্রস্তুত করেছেন খাবার স্যালাইন, সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে। প্রসঙ্গ, ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একই কার্যক্রম নিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে দাড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীদের শারিরীকভাবে নির্যাতন করে। ছাত্রলীগ সেদিন শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীদের সম্ভমহানির হাত থেকে রক্ষা করে ও দোষদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আটক আমাদের প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে প্রথম সাহসি উচ্চারণ তুলেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কাজী নজরুলের কবিতার মতই, ” মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি, আরেক হাতে রণ তূর্য “। আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি দুঃস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পথ শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমান পাঠদান কর্মসূচি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের চর্চা। ১৯৭৩ সালের ৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ” শেখ মুজিবুর রহমানকে বেটে খাওয়ালেও বাংলা সোনার বাংলা হবে না, যদি বাংলাদেশের ছেলে আপনারা সোনার বাংলার সোনার মানুষ পয়দা করতে না পারেন “। তাই তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর ব্রত বা শপথ সোনার মানুষ হওয়া। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার সোনালী অতীতের মতো সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়বে আর সেজন্যই বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটা নেতাকর্মী তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখছে। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে প্রযুক্তিদক্ষ ছাত্র সমাজ তৈরিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ১৯ দফা দাবি পেশ করছে। ভবিষ্যতেও ছাত্রলীগ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ শিক্ষা সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তাকল্পে কাজ করবে। নবীনদের মেধা দেশ গড়ার কাজে লাগুক, স্বাধীনতার মূল মন্ত্রে বিধৌত হোক নতুন প্রজন্মের বিবেক ও চেতনা।

অনাগত প্রজন্মের লড়াই হোক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে। বঙ্গবন্ধুর নীতি এবং আদর্শ বুকে ধারণ করে, সব অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে, দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন ২০২০ সাল এবং ২০২১ সাল বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে, ” ২০২০-২০২১ সালকে মুজিব বর্ষ ” হিসেবে পালন করা হবে। কিন্তু বর্তমানে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাধ্যমে কিছু কিছু অনুষ্ঠান করা হয়। মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে আমরা ছাত্র সমাজ আশা করি (বি.স.ক) বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সহও বাংলাদেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নিবার্চন দেওয়া হোক। যাতে করে আমরা ছাত্র-ছাত্রী আমাদের শিক্ষার পরিবেশ এবং আমাদের অধিকার সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারব। পরিশেষে আমাদের শিক্ষার্থীদের উচিত মা-বাবার কথা মনে রেখে পড়ালেখা করা। কেননা মা-বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের পড়ালেখা করাচ্ছেন, প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য। আমরা যেন কখনও মা-বাবাকে কষ্ট দেই না। বর্তমান সমাজের কিছু লোক বলাবলি করে আজকালকের ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষিত হয়েও বৃদ্ধ মা-বাবাকে ভুলে যায়, তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়, তাদের খোঁজ খবর রাখে না, একবারও মা-বাবার কথা চিন্তা করে না। সৃষ্টিকর্তার পরেই মা-বাবার মর্যাদা। আমরা যারা পড়ালেখা করছি আমাদের সবসময় মা-বাবার কথা স্মরণ রাখা উচিত। কেননা ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ, কষ্টের তীব্রতা সহ্য করে যে মানুষটি তিনিই মা। বাবাও যে কোন ত্যাগ স্বীকার করেন না, এমন নয়। জীবনের সবটুকু দিয়ে ছেলে-মেয়েদের মানুষ করেন। কিন্তু সেই ছেলে-মেয়েরাই কি মা-বাবাকে মনে রাখে? এমন প্রশ্নই হয়তো আপনার-আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে বর্তমান সমাজের অনেকেই বলে ছেলে-মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও বৃদ্ধাশ্রমে মা-বাবা। আমাদের বেলায় এমনটা যেন না হয়। সত্য আদর্শবান বন্ধু-বান্ধব যেন আপনার আমার হয়। ” দুটি দেহে একটি আত্মার অবস্থানই হলো বন্ধুত্ব “। তাই তো শিক্ষা জীবনে চলার পথে ভালো বন্ধু থাকা সবচেয়ে ভালো। এজন্যই বলা হয়, ” সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাস “। বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনায় যে কোনো রাজনৈতিক দল আসুক না কেন সবার উচিত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রের উচ্চ আসনে সম্মান দেওয়া। অন্যদিকে ছাত্র রাজনীতি ছাড়া ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতি কল্পনা করা যায় না। আমাদের ছাত্র সমাজের উচিত প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবার, দেশ ও জাতি নিয়ে ভাবা, দেশের উন্নয়নে কাজ করা এবং একমাত্র সৃষ্টিকর্তার এবাদত করা। শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে তার একটি বাক্য, ” একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানব জাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তন সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তুলে “। অতএব আমাদের শিক্ষার্থীদের শপথ এটাই হোক, ” শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ “। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আসুন সবাই সচেতন থাকি স্বাস্থ্যবিধি ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

ইতিকথা-লেখক মোঃ রুহুল আমীন স্নাতক পাস ৩য় বর্ষ (২০১৬-১৭) শিক্ষাবর্ষ বি.স.ক।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close