আন্তর্জাতিকস্বাস্থ্য

প্লাজমা দানের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠছেন ৭৬ শতাংশ রোগী।

সুহেলি রিপা, নিজস্ব প্রতিনিধি; প্রতিনিয়ত কভিড-১৯ এ আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে এ ভাইরাস নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্র ও সুযোগ দুইই বেড়ে চলেছে দিন দিন। এসব গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন আগেও আমরা এই ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যা ধারনা করেছিলাম, ধীরে ধীরে সে ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। এই মুহুর্তে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বড়ো বড়ো গবেষণাগারে করোনাভাইরাস নিয়ে চলছে গবেষণা। সেই সঙ্গে কমে আসছে করোনাভাইরাস চিকিৎসার জটিলতা।

যুক্তরাষ্ট্রের হোস্টন মেথোডিস্ট হসপিটালের গবেষকরা বলছেন- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠা ব্যক্তিদের শরীর থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে প্রবেশ করান, এতে করোনার প্রভাব থেকে সাধারণের চেয়ে দ্রুতগতিতে সুস্থ হয়ে উঠেন ৭৬ শতাংশ রোগী ।

আরও বলেন, সুস্থ রোগীর দেহ থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা রোগীদের দেহে প্রয়োগ করা একেবারে নিরাপদ এবং যারা উপসর্গহীন আক্রান্ত, তাদের জন্যও এটি কাজের।২৫ জন রোগীর শরীরে প্লাজমা দেওয়ার পর ১৯ জনের অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। এর মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

এটিই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো করোনা রোগীর শরীরে প্লাজমা দিয়ে চালানো পরীক্ষা। প্লাজমা দেওয়ার ফলে কোনো রোগীর শরীরেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

গবেষক ডা. জেমস এম. মুস্সার বলেছেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসার কোনো ওষুধ কিংবা টিকা ছাড়াই অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এখন। ১০১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু যখন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনো এভাবে প্লাজমা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিককালের ২০০৩ সালে সার্স মহামারির সময়ও এভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাস একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল ভাইরাস যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করছে। এতসব অবজ্ঞাত খবরের মাঝে এটি একটি সুখবর বটে।এ প্রক্রিয়ায় করোনা থেকে সহজেই রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশাবাদি চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close