খেলার খবর

প্রথম ওয়ানডে জয়ের দিনে প্রথম শিরোপা জয় |

দিনটা ১৯৯৮ সালের ১৭ মে। হায়দরাবাদে কেনিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ জিতল নিজেদের প্রথম ওয়ানডে।আজ সেই গৌরবের ২২ বছর পূর্তি,কেনিয়াকে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৩৬ রান সংগ্রহ করে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ওয়ানডেতে প্রথম জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

আবার আজকের এই দিনে গতবছর প্রথম কোন শিরোপা জয় লাভ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।বৃষ্টি বিঘি্নত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক সিরিজের শিরোপা জিতলো মাশরাফির দল।সেই সাথে কাটালেন ফাইনালের গেরো।

২০০৯ সালের পর ২০১৮- দীর্ঘ ৯ বছরে ৬টি ফাইনাল খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ। আর প্রতিটি ফাইনালেই সঙ্গী হয়েছে হারের কান্না।কিন্তু ২০১৯ সালের ১৭ মে’তে এবার সঙ্গি হলো সুখের কান্না।
সেদিনের লক্ষ্যটা ছিল কঠিন। তবে ঝড় তুলে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার।

দুইবার কাছাকাছি সময়ে জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সমীকরণ হয়ে গিয়েছিল কঠিন। বিধ্বংসী ইনিংসে সেই সমীকরণ মেলালেন মোসাদ্দেক হোসেন।সব মিলিয়ে সপ্তম ফাইনালে এসে পেল সেই ‘লাকি’র দেখা। সেই লাকি শিরোপার স্বাদেও মিশে রইলো সৌভাগ্যের ছোঁয়া।

১৯৯৮ সালের সেদিন সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে আতাহার আলী খানের সাথে মোহাম্মদ রফিক ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসাবে নামে কোচের নির্দেশে।আর ৭৭ রান করে কোচের আস্থার প্রতিদান দেন মোহাম্মদ রফিক।

দলীয় ১৩৭ রানে বিদায় নেন মোহাম্মদ রফিক। শুধু ব্যাটে নয় বল হাতে তিন উইকেট শিকার করেনও ফলে পান ম্যাচ সেরার পুরুষ্কারও।

ঘুরে ফিরে আসছে আজকের দিনে আরো একটা প্রথম কিছু জয়ের, সেটা আবার ফাইনাল কোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট/ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম কোন ট্রফি জয়ের দিনও।

সেইদিন টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছলো বাংলাদেশ দলের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।প্রথম ৫ ওভারে যেখানে উঠল ১৫, সেখানে ২০.১ ওভারে ১৩১ রান! দুই থিতু হওয়া ওপেনার হোপ ৫৬ বলে ৬৮ এবং আমব্রিস ৬৫ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। যেভাবে এগুচ্ছিলেন তাতে রানপাহাড়ের সম্ভাবনাই জাগছিল ম্যালাহাইডে।

তবে সেসব ভাবনাকে দূরে ঠেলে ৩ ঘন্টা ২০ মিনিটে ভারী বর্ষণের ফলে খেলা বন্ধ থাকে সাড়ে ৫ ঘন্টা। আর খেলা সম্ভব না হলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল হিসেবে শিরোপা উঠত বাংলাদেশের হাতেই।

কিন্তু ওভাবে শিরোপা জয় করলে মনের মধ্যে একটা খচখচানি রয়েই যেত। সহায় হলো প্রকৃতি।

খেলা শুরু হল বটে তবে ম্যাচ নেমে আসে ২৪ ওভারে। বাকি ৩ ওভার ৫ বল খেলে হোপের উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজ তোলে ১৫২। কিন্তু ডাকওয়ার্থ ও লুইস নিয়মে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০।

কিন্তু সেই দুরূহ লক্ষ্য ৭ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে ২১০ পেরিয়ে ২১৩ করে বিজয়োল্লাসে মেতেছে বাংলাদেশ।

দলকে জেতাতে সবচেয়ে বড় অবদান ওপেনার সৌম্য সরকারের। ঝড় তুলে ২৭ বলে ফিফটি করে তিনি দেখিয়েছিলেন পথ। ৬৬ রানে ফিরে গেলোও দলকে বুঝিয়ে দিলেন জয় অসম্ভব নয়।

আর দলের চাপের মধ্যে নেমে আরেকটি ঝড়ো ফিফটি করে সেদিন কাজটা সেরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেক অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৫২ রানে। মাত্র ২১ বলে ফিফটি তুলে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়েন তিনি। যেখানে চার ছিল দুটি আর ছক্কার মার ছিল ৫টি। তুলে নেন ম্যচ সেরার পুরষ্কারও।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২১ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম ওয়ানডে জয় আর ফাইনাল জয় স্মৃতির পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেলো ১৭ মে নামক দিনটি।

লিখেছেনঃ মোঃ রজ্জব আলী

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close