বাংলাদেশ

পপ সম্রাট আজম খানের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ |

আব্দুল কাইয়ুম,বিশেষ প্রতিনিধি: বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের আজ নবম মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি বাংলাদেশের একজন পপ তারকা ছিলেন একাধারে সুরকার ও গীতিকার, অভিনেতা এবং ক্রিকেটার ছিলেন।১০ নং সরকারি কোয়ার্টার আজিমপুর কলোনিতে ২৮ ই ফেব্রুয়ারী ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যু বরণ করেন তিনি ৫ই জুন ২০১১ সালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

পপ সম্রাট আজম খানের আসল নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান তবে বাংলাদেশের মানুষের নিকট তিনি আজম খান নামেই পরিচিত ছিলেন।ব্যক্তিজীবনে তার দুটি মেয়ে এবং একটি পুত্র সন্তান ছিলো।আজম খান ২০১৯ সালে সঙ্গীত বিভাগে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। ২০০২ সালে কোকা কোলা গোল্ড বটলের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় এবং রেডিও টুডের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা (কাউন্সিল অব আরবান গেরিলা ঢাকা ৭১ ) দেওয়া।১৯৯৩ সালে বেস্ট পপ শিল্পি পুরস্কার লাভ করেন।১৯৬৯ সালের গনঅভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন তিনি ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর  সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসঙ্গীত প্রচার করেন। ১৯৭১ সালে আজম খানের বাবা আফতাব উদ্দিন খান সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। বাবার অনুপ্রেরণায় আজম খান যুদ্ধে যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি পায়ে হেঁটে আগরতলা  চলে যান।

তিনি প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ভারতের মেলাঘরের শিবিরে এবং সেখানে তিনি শহিদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমির কাছে এলএমজি, রাইফেল চালানোসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ সময়ে তাঁর লক্ষ্য ছিল সেক্টর ২ এ খালেদ মোশাররফের অধীনে যুদ্ধে যোগদান করা। আজম খান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন মাত্র ২১ বছর বয়সে। তাঁর গাওয়া গান গুলি প্রশিক্ষণ শিবিরেমুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের জন্যে প্রেরণা যোগাতো। যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শেষে তিনি কুমিল্লায় চলে আসেন পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য। কুমিল্লার সালিদায়  প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করেন আজম খান।এর কিছুদিন পর তিনি পুনরায় আগরতলায় ফিরে আসেন এরপর তাঁকে পাঠানো হয় ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য। আজম খান ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের একটা সেকশনের ইন-চার্জ আর তার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল খালেদ মোশাররফ । ঢাকায় তিনি সেকশন কমান্ডার হিসেবে ঢাকা ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আজম খান মূলত যাত্রাবাড়ী এবং গুলশান এলাকার গেরিলা অপারেশন গুলি পরিচালনার দায়িত্ব পান। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল তাঁর নেতৃত্বে সংঘটিত অপারেশন তিতাস তাদের দায়িত্ব ছিল ঢাকার কিছু গ্যাস পাইপলাইন ধ্বংস করার মাধ্যমে বিশেষ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল , হোটেল পূর্বাণীর গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো। তাঁদের লক্ষ্য ছিলো ঐ সকল হোটেলে অবস্থানরত বিদেশিরা যাতে বুঝতে পারে যে দেশে একটা যুদ্ধ চলছে। আজম খান এই যুদ্ধে তিনি তাঁর বাম কানে আঘাতপ্রাপ্ত হন যা পরবর্তীকালে তাঁর শ্রবণক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটায়। আজম খান তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে পুরোপুরি ঢাকায় প্রবেশ করেন ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এর আগে তারা মাদারটেকের কাছে ত্রিমোহনীতে সংগঠিত যুদ্ধে পাক সেনাদের পরাজিত করেন। তার উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো, বাংলাদেশ, আলাল ও দুলাল,নীল নয়না, অনামিকা, ওরে সালেকা ওরে মালেক যা তার ভক্তদের হৃদয়ে আজীবন গেঁথে থাকবে।
ওপারে ভালো থাকবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close