রাজনীতি

নগরপিতা বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান (১৯৫১-২০২০)

মোঃ রুহুল আমীন ; ৩৬০ আউলিয়ার পূর্ণ ভূমি, দুইটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেটের সন্তান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারী সিলেট শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মরহুম বশির উদ্দিন আহমেদ ও মা মরহুমা বেগম নুরুন্নেছা লালন। সদা হাস্যোজ্জ্বল বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান মাথায় সাদা টুপি পরতেন, মুখে কালো গোঁফ। চোখে সাদা চশমা পড়া লোকটি ছিলেন সিলেটের মানুষের নয়নমণি। ধীরস্থির প্রকৃতির কামরান সর্বদা মানুষের পাশে ছিলেন। তিনি ছিলেন নগরবাসীর বিপদের আশ্রয়স্থল নগরপিতা। এ কারণে ১/১১’র সময় জেলে থেকেও মেয়র নির্বাচিত হন।

সিলেট পাইলট স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। ছাত্র অবস্থায় ১৯৬৯- সালের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলন, সংগ্রামে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজপথ কাঁপিয়েছেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনৈতিক সৈনিক হিসেবে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এভাবেই ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। এরপর ১৯৭৩ সালে সিলেট পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনার পদে বিপুল ভোটে জয়ী হন কামরান। তখন তিনি মাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। সিসিকে আজ পর্যন্ত এত অল্প বয়সে জনপ্রতিনিধি হতে পারে নি কেউ।

সিলেট সিটি করপোরেশন গঠনের পর পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র, এরপর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।

১৯৮৯ সালে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। ১৯৯২ এবং ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন কামরান।

সিলেট মহানগর গঠিত হলে ২০০২ সালে প্রথমবারের মত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। ২০০৫ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে এবং ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। টানা তিন মেয়াদে দেড় যুগ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে সভাপতির পদ ছেড়ে দেন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। প্রায় তিন দশক কামরানবিহীন পথচলা শুরু হয় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পাওয়া কামরান বর্তমান কমিটিতেও একই পদে ছিলেন।

এদিকে রাজনীতিবিদ কামরান জনপ্রতিনিধি হিসেবেও ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। ১৯৭৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাবস্থায় সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার হয়ে চমক দেখান জনতার বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। সেই থেকে সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন তিনি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টানা ১৫ বছর ছিলেন পৌরসভার কমিশনার। মাঝপথে খানিকটা বিরতি ছিল প্রবাসে যাওয়ায়। সেবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। প্রবাস থেকে ফিরেই ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন গঠিত হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে প্রথম সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ।

১/১১’র সময়ে দুইবার কারাবরণ করেন কামরান। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সিলেটবাসী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের অবদান কখনো ভুলবে না, সিলেটের সন্তান হিসেবে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জননেতা কামরান থাকবেন সবার হ্রদয়ে।

কোভিড-১৯ করোনানভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত রবিবার ১৪ জুন দিবাগত রাত ৩ টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৯ বছর বয়সে বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ইন্তেকাল করেন। ইন্না-লিল্লাহী…রাজিউন
নগরপিতা জননেতা বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের মৃত্যুতে সিলেটবাসী শোকাহত। সবাই তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন যেনও আল্লাহ তাদের প্রিয় বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান কে বেহেশত নসিব করেন।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close