ব্রেকিং নিউজবাংলাদেশস্বাস্থ্য

দেশে ক্রমশ বাড়ছে করোনার প্রাদূর্ভাব

আজ-কাল ডেস্ক: বাংলাদেশে মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। প্রতিদিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের দিন টাকে।

গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মহামারি করোনা ভাইরাসে মৃত্যু বরণ করেছেন রেকর্ড ১৫ জন। এই সময় আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৬ জন। এই নিয়ে দেশে কোভিড নাইন্টিনে প্রাণ গেল মোট ৭৫ জনের। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ শ ৩৮ জনে। গতকালের চেয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা তবে কমেছে আক্রান্তের সংখ্যাও। নতুন করে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন আরো ৯ জন, মোট সুস্থ হলেন ৫৮ জন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর নিয়মিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ পরিক্ষা করা হয়েছে ২ হাজার ১৯০ টি।

ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশে ৬৮ শতাংশই পুরুষ, মহিলা ৩৮ শতাংশ। তিনি বলেন, শতকরা ৪৬ ভাগ রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা, এরপরে নারায়ণগঞ্জ শতকরা ২০ ভাগ।এরপরে রয়েছে গাজীপুর, চট্রগ্রাম,মুন্সিগজ সহ আরো বিভিন্ন জেলা।

বাংলাদেশে সবচেয়ে করোনা আক্রান্ত পাওয়া গেছে ঢাকায়, এরপর নারায়ণগঞ্জে। এদুটি জেলাকে হটস্পট মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৪ টি জেলায় সংক্রমিত হয়েছেন ভাইরাসটিতে। ভাইরাসের প্রকোপ দমনে এরই মধ্যে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে অঘোষিত লকডাউন চলছে। দেশে ৩০ টির মতো জেলাকে ইত্যিমধ্যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দোকানে,হাটে এবং ত্রান বিতরণ জনসমাগম করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। তাই সেদিকে অধিক নজর করতে হবে। সংক্রমনের সংখ্যা যদি ক্ষমতা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কার্যকর লকডাউন করে স্পেন,ইতালি পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং তারা এখন শিথিল করতে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয়টি নজরে রেখেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় আরো বলেন, করোনা ভাইরাসে দমনে মূল হাতিয়ার এর সংক্রমণ রোধ করা এবং এ যুদ্ধে ঘরে থাকা।

মন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল তৈরি কার্যক্রম চলছে, বসুন্ধরা কনভেনশনে ২০০০ ব্রেড প্রায় প্রস্তুত। ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৩০০ ব্রেডের কার্যক্রম চলছে, উত্তরা দিয়াবাড়িতে ৪ টি বহুতল ভবনে ১২০০ ব্রেডের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়াও করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য চারটি হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যে চারটি হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট,মুগদা জেনারেল হাসপাতাল,শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে মহামারি আকার ধারণ করায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল অনিবার্য করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিতে এই চারটি হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close