খেলার খবর

দেশের ক্রান্তিলগ্নে ক্রিকেটাররা সবাই সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন

খেলা ডেস্ক ঃ

করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় কোণঠাসা সারা বিশ্ব। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। এই অবস্থায় বন্ধ তামাম দুনিয়ায় খেলাধুলা। তবে খেলাধুলার মানুষ গুলো বন্ধ বসে নেই। সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন যার যার অবস্থান থেকে। লিওনেল মেসি, ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার,ফেদেরার,নাদাল থেকে শুরু করে শহীদ আফ্রিদি,মহেন্দ্র সিং ধোনিরা অসহায় মানুষ কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে দাড়িয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ক্রীড়া তারকারাও থেমে নেই। মাশরাফি, সাকিব,তামিম,মুশফিকরা কিংবা জামাল ভূইয়ারা সাধ্যমতো করে যাচ্ছেন সাহায্য।

তবে বাংলাদেশে সাকিব আল হাসান যেন আরেকটু এগিয়ে। দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন গঠন করে এগিয়ে এসেছেন তিনি। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাহায্য করা হবে অসহায় মানুষের। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞায় থাকা এই ক্রিকেটার বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়। বৈশ্বিক তারকা। তিন ফরম্যাটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে পার করেছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যাট ২ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটি সহ করেন ৬০২ রান। সাথে বল হাতে ১২ উইকেট। নিসন্দেহে ওয়ার্ল্ড ক্লাশ পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের সেরা হওয়ার মতো পারফর্মেন্স। বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাকিব। যে ব্যাটে সাকিব বিশ্বকাপে এত ভালো সময় সেই ব্যাটটা নিলামে তুললেন সাবেক বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। গত মঙ্গলবার সেই ব্যাটটি নিলামে ২০ লাখ টাকায় কিনে নিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি। তার পুরো অর্থ জমা পড়বে তার ফাউন্ডেশনে। এছাড়া এর আগে সাকিব বিভিন্ন হাসপাতালে ২০ লাখ টাকার টেস্টিং কীট দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সাথে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের খাবারের জন্য অর্থ তহবিল জমা করেছেন সাকিব।

এর আগে করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে তামিম-মুশফিকদের ক্রিকেট সামগ্রী নিলামে তুলে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান সাকিব। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের আরেক খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিমও নিজের ব্যাট নিলামে তোলার ঘোষণা দেন। তিনি ২০১৩ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে নিজের ও বাংলাদেশের পক্ষে টেষ্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটটি নিলামে তোলার কথা জানান। বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা তারকা মুশফিক নিজ জেলা বগুড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী প্রদাণ করেন

ব্যাট নিলামের কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরেক তারকা মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৫ সালে অষ্টেলিয়ার বধে যে সেঞ্চুরি করেছেন সেই ব্যাটটি নিলামে তোলার কথা জানান।

এছাড়াও ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালও করোনার ক্রান্তিলগ্নে এগিয়ে এসেছেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথে বেতনের অর্ধেক টাকা দান করেছেন করোনার তহবিলে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে নারায়ণগঞ্জে ক্রিকেটার নাজমুল অপুর সঙ্গে মিলে দুস্থদের সাহায্য করেছেন তিনি এবং দেশের স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট সামিউে ইসলামকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন তামিম। বিদায়ী অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজাও বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন করোনা কালে। ব্যতিক্রম যাননি
রুবেল,লিটন,মোসাদ্দেক, সৌম্য সরকাররা সবাই সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন এই সংকটের সময় অসহায় মানুষের।

দেশের ক্রান্তিলগ্নে ক্রিকেটাররা সবাই সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন

করোনার এই সংকটে জাতীয় দলের ২৭ ক্রিকেটার তাদের বেতনের ৫০ শতাংশ করোনা তহবিলে জমা দেন। মাশরাফি-তামিম-মুশফিকদের টাকার পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close