বাংলাদেশসহযোগিতা

দয়া করে আকাশকে একটু বলুন,সে সামান্য উপরে উঠুক,আমি দাড়াঁতে পারছি না

কে আছেন ? দয়া করে আকাশকে একটু বলুন,
সে সামান্য উপরে উঠুক,আমি দাড়াঁতে পারছি না ।

জীবনের চরম দু:সময়ে অলস সময় পার করছেন ? গ্যারেজে অলস পড়ে আছে বিলাসবহুল গাড়িটি, অর্থাভাবে নয় বৈশ্বিক উদ্ভুত বিপর্যয়ের দরুণ গাড়ি হাকাতে পারছেন না রাজপথে । বেঁচে যাওয়া জ্বালানি সঞ্চয় মনে করে সেটুকুও অর্থ তুলে দিতে পারেন আশপাশের হতদরিদ্র দু-চার জনের হাতে । আপনি প্রবাসী, নিজ কষ্টার্জিত অর্থ থেকে লাখ টাকা পাঠাবেন দেশে পরিবার পরিজনের ঈদ ও রমজানের খরচ বাবদ । সরকার আপনাকে উৎসাহিত করার জন্য ২% ইনসেনটিভ দিচ্ছে, বাড়তি টাকাগুলো দিয়ে হলেও আপনি থাকতে পারেন আমাদের মতো কারো সাথে । একজন অধূমপায়ী হিসাবে ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করেছি প্রতিনিয়ত, বন্ধু ও গুরুজনদের মধ্যে অনেকেই দিনে ১ প্যাকেট দামী ব্রান্ডের সিগারেট ফুঁকে থাকেন । হাত বাড়াতে পারেন তাদের কেউও, মাসের ৪ প্যাকেট পরিমাণ তামাক নি:সৃত নিকোটিন বাঁচিয়ে অপেক্ষাকৃত ভাল রাখতে পারেন নিজ ফুসফুস ও হৃদপিণ্ড এমনকি হতদরিদ্র কর্মহীন কোন পরিবারকে । কার্বন ডাই অক্সাইডের বিনিময়ে যদি কিছু অক্সিজেন সওদা করা যায় তবে মন্দ কিসে ? বিশ্বব্যাপী বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট, নিজ সন্তানের আমদানীকৃত শিশুখাদ্যের বেঁচে যাওয়া অর্থও হতে পারে আপনার অনুদানের উৎস ।

ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আপনাদেরকে উদ্যেশ্য করেই বলছি । অন্যান্য বছরে রীতিমতো রেওয়াজে পরিণত হওয়া ট্রেন্ড ইফতার কিংবা সেহরী পার্টির বেঁচে যাওয়া অর্থগুলোকে তুলনামূলক বেশি অর্থবহ করে তুলতে পারেন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিকল্প ভাবে সদ্বব্যবহার করে । শ্বশুড়বাড়িতে মেয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে ইফতার সামগ্রী ও ফলমূল পাঠানোর মতো অকাজ না করে কাজে লাগাতে পারেন টাকাগুলো । পরিস্তিতির স্থবিরতায় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে তাল মিলিয়ে স্রোতে গাঁ ভাসাতে গিয়ে আপনাকে বিলাসবহুল ফুডকোর্ট গিয়ে গিলতে হচ্ছে না হরেক স্বাদের খাবার, মিনিটে মিনিটে হাল ফ্যাশনের জামা গায়ে জড়িয়ে হাঁকাতে হচ্ছে না ‘সেলফি’ । উটকো বাজেখরচ থেকে বেঁচে যাওয়া টাকাগুলো নিয়েও অনায়াসে দাঁড়াতে পারেন লজ্জার কাছে হার মানা অসহায় মধ্যবিত্ত কোন পরিবারের পাশে । চাকুরীতে প্রমোশন, ব্যবসায় সাফল্য কিংবা নতুন গাড়ি, হ্যান্ডসেট বা জমি কেনার ‘কাফফারা’ বাবদ শহুরে বন্ধুদের ‘ট্রীট’ মাশুল না দিয়ে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে অসহায় কোন পরিবারের এক মাসের অবলম্বন হতে পারলে হয়তো ধরিত্রীর এই চরম দু:সময়ে নিজের বিবেকের কাছে কিছুটা হলেও স্বচ্ছ থাকতে পারবেন ।

পৌনে আটশো কোটি সন্তানের জননী এ ধরিত্রীর বুঁকে ২,১১,০৬৫ (দুই লক্ষ এগারো হাজার পয়ষট্টি) লাশ, আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে । ধরিত্রীর বুঁকে ঘুমিয়ে থাকা লাশগুলো যেন চিৎকার দিয়ে বলছে,

“কে আছেন ?
দয়া করে পাঁজর চাপা দেওয়া মাটিকে একটু বলুন,
সে সামান্য উপরে উঠুক, আমি আর শুতে পারছি না “

হে বিবেক জাগ্রত হও
মানবতার শুশ্রুষায়
সারিয়ে তুলো ধরিত্রীকে ❤️

লিখেছেন: রাহাত তরফদার

লেখক ও সাবেক সভাপতি ,সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close