বাংলাদেশ

‘ত্রান বিতরন’প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ নেতা রকির খোলা চিঠি

ত্রাণ বিতরণ’ প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর চট্টগ্রাম মহানগর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সালাউদ্দিন চৌধুরী রকির খোলা চিঠি

“ত্রাণ বিতরণ প্রসঙ্গে খোলা চিঠি”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সালাম নিবেন,জানি আপনি ভালো নেই, যেখানে প্রিয় বাংলাদেশ ও দেশের মানুষ ভালো নেই, সেখানে আপনি ভালো থাকবেন কি করে? কারণ দেশ হাসলে, মানুষ হাসলে আপনিও হাসেন!! দেশের এ দুর্দিনে আপনি দেশ ও মানুষকে নিয়ে গভীর চিন্তিত, কিভাবে এ ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, আপনি নিজ হাতে প্রতিটি জেলার প্রশাসকদের নিয়ে সরাসরি সবকিছু মনিটরিং করছেন।

হে বিশ্বনেত্রী, করোনাভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া এক আতঙ্কের নাম। যার থাবায় বিশ্বের বহু উন্নত ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্র টালমাটাল। সেখানে আপনি ভেঙ্গে না পড়ে, তা শক্তহাতে সংঘবদ্ধভাবে সচেতন হয়ে মোকাবিলা করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন!! বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মসজিদ বন্ধ করলেও আপনি মসজিদের দ্বার খোলা রেখেছেন।

হে জননেত্রী, বাংলাদেশ বিশ্বের একটি ছোট ও জনবহুল দেশ। তবে আপনার যথার্থ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে দেশ দ্রুতই মধ্যম আয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশের একটি হলো আমাদের সোনার বাংলা!! বিশ্বে আতঙ্ক ধরানো করোনাভাইরাস থেকে প্রিয় জন্মভূমিও রেহাই পায়নি। আমাদের দেশ উন্নতির যে অশ্বগতিতে ছুটে চলেছিলো, তা নিমিষেই থেমে গেলো।

হে দূরদর্শী নেত্রী, করোনা দিন দিন আরো ভয়ংকর হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অচলাবস্থা থেকে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিবে, দিবে বাংলাদেশেও। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে গার্মেন্টসসহ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও স্বাস্থ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। দিনমুজুর, শ্রমিক, রিক্সসাচালক, ভ্যান, ড্রাইভার ও হকারদের জন্য নগদ অর্থ তাদের মোবাইলে পোঁছে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। দিয়েছেন প্রবাসীদের বিনা জামানতে ঋণের ঘোষণাও!!

হে আশার বাতিঘর, আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা যেমন আনন্দিত হই তেমনি কিছু জনপ্রতিনিধির কাণ্ডজ্ঞানহীন নেতৃত্ব আর আচরণে আমরা আশাহত হই। “আমরা ভাগ্যবান যে আপনার মতো একজন মহান নেত্রী পেয়েছি,আর আমাদের এটাও দুর্ভাগ্য যে আপনার মতো বা সমকক্ষ কোনো নেতা বা নেত্রী পাইনি, পাবোওনা এটা নিশ্চিত”!! একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও আপনি যেভাবে রাত দিন পরিশ্রম করছেন, যতটা চিন্তা করছেন,সরাসরি জনপ্রতিনিধি হয়ে কতোজন এমপি, মন্ত্রী সেটা করছে, আর সংরক্ষিত নারী সাংসদদের কাজ কি, প্রশ্ন রইলো?? কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা ওনারাই তো ভোগ করেন,পাহারা নিয়ে, গাড়িতে পতাকা নিয়ে, ফাঁকা রাস্তায় তীব্র গতিতে ছুটে বেড়ান। আর তৃণমূলের চেয়ারম্যান, মেম্বার, আওয়ামী লীগের সভাপতি, জিএসসহ অন্য নেতা কর্মীদের ভূমিকা প্রশংসনীয় নয়। অথচ দল টানা বহু বছর ক্ষমতায় আছে বলে কিছু নামধারী ও মুজিব কোট পরা নেতা চুনো-পুঁটি থেকে রাঘববোয়ালে পরিণত হয়েছে!! দেশের দুর্দিনে তারা অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে না থেকে তারা চাল চুরি করে, চোরের তকমা লাগিয়ে, আদর্শের পতাকাবাহী দল আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট করছে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সে এমন ঘৃণিত ও নিষ্ঠুর কাজ করে কিভাবে??? তাদেরকে বহিষ্কার করুন এবং তাদের মদদদাতা কারা, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। কারণ দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।

হে বিজয়ী, মহান স্রষ্টার কৃপায়, অতীতের সকল লড়াই, আন্দোলন ও সংগ্রামের মতো আমরা সচেতনতার সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা থেকে করোনাভাইরাস নির্মুল করবো। আমাদের সবকিছু আছে, শুধু স্থানীয় ও তৃণমূলের নেতা কর্মীদের প্রতি আস্থা নেই; যারা ত্রাণ দেয়ার নামে চুরি করে। দেশের অসহায়, দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ বিতরণের জন্য ৭হাজার কোটি টাকা বাজেট করেছেন। যার যথার্থ ব্যবহার করলে বাংলার কেউই কষ্টে থাকবেনা, অনাহারে থাকবেনা। কিন্তু কিছু জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মী তা লোভে পড়ে জ্বলাঞ্জলি দিলো। যারা সামান্য চালের লোভই সামলাতে পারেনা, তারা কিভাবে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করবে, আপনার কাছে আরেকটা প্রশ্ন রইলো??? নিজের জীবন ও পরিবারকে তুচ্ছ করে যারা এদেশকে স্বাধীন করেছে, সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আপনি কেনো শ্রদ্ধা জানান ও ভালোবাসেন, এবার সাধারণ মানুষ সেটা অনায়াসেই বুঝার কথা!!

হে দেশরত্ন, আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশের নির্মাতা। আপনি এদেশ ও দেশের মানুষকে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে আপনি শেষ আশ্রয়স্থল ও আশার বাতিঘর! করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির প্রধান শর্তই হচ্ছে সামাজিক দুরত্ব, কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামে ত্রাণ বিতরণের সময় প্রচুর জনসমাগম হয়, যার ফলে এ ভাইরাস দেশে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে!!

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ত্রাণের পরিবর্তে অসহায়, দরিদ্র ও হতদরিদ্রদেরকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা যার যার মোবাইলে পোঁছে দেয়ার নির্দেশ দিন। তবেই সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকবে, শ্রম ও সময় বাঁচবে, সুষম বণ্টন হবে এবং আপনি, আমরা, আমাদের ও বাংলাদেশের বিজয় হবে।

আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি; নিরাপদে থাকুন, ভালো থাকুন ও সুস্থ থাকুন। ভুল হলে ক্ষমা করবেন, খোদা হাফেজ।
ইতিঃ-
সালাউদ্দিন চৌধুরী রকি
একজন দেশপ্রেমিক।
কর্মী,চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close