আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প বিস্মিত নন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য জরুরী প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ড.মাইক রায়ান বলেছেন, করোনা ভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারে।

শুক্রবার জেনেভা থেকে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ের সময় রায়ান বলেন, একটা পথ বের করতে হবে, তবে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের জীবনধারাতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের কাছে একটি কার্যকর ভ্যাকসিন বা কার্যকর চিকিৎসা না আসা পারা পর্যন্ত।

রায়ান বলেন, বিশ্বব্যাপী যেমন সব মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দলটি বিশ্বের অন্যান্য মানুষের মতো শারীরিক দূরত্বের প্রভাব অনুভব করে। আর এজন্য রায়ান ১৮ সপ্তাহ ধরে হাত মেলাননি কারো সাথে। তিনি বলেন, আমরা ১৮ সপ্তাহের মধ্যেও হাত মেলাইনি বা আমাদের বন্ধুদের আলিঙ্গন করিনি।

আর তাই এই মুর্হুতে তিনি কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিতে আহবান করে বলেন, জীবন জীবনই, শূণ্যতারও কোনো ঝুঁকি নেই।

করোনা ভাইরাসের কারণে কানাডায় রেকর্ড পরিমাণ বেকারত্বের হার বেড়েছে। শুধুমাত্র এপ্রিলে ২ মিলিয়ন মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। মার্চে ১ মিলিয়ন ছিলেন এই তালিকায়। এরফলে দেশটিতে বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও বেকারত্ব দুটোই বেড়ে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। এএফপি জানিয়েছে শুধুই এপ্রিল মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে বেকার হয়েছেন ২০ মিলিয়নে বেশি। এর ফলে দেশটিতে বেকারত্বের হার এপ্রিলে বেড়েছে ১৪. ৭ শতাংশ যা মার্চ মাসে ৪.৪ শতাংশ ছিল।

অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব বেকারত্বের হার নিয়ে বিস্মিত নয় বলে জানান। দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় দোকান-পাট, কলকারখানা সহ কর্মস্থল। এরফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কর্মহীনদের সংখ্যা।

এই নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই ট্রাম্পের। আগামী বছর নাকি যুক্তরাষ্ট্রের অভূতপূর্ব বছর আসছে বলে জানান। শুক্রবার ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন, কৃত্রিম বন্ধ হওয়ার পরে অর্থনীতি গর্জে উঠবে। এই সমস্ত চাকরি ফিরে আসবে এবং তারা খুব শীঘ্রই ফিরে আসবে এবং পরের বছর আমরা একটি অভূতপূর্ব বছর যাব।

অপরদিকে কোভিড নাইন্টিনে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৮৭ জন । এরফলে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৮ হাজার ৬১৫ জনে। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ হাজার । এই নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ লাখ ২১ হাজার।

করোনায় বিপর্যস্ত নিউইয়র্কে বিরল এক রোগে এক শিশু মারা গেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের গর্ভনর অ্যান্ডু কুমো। কাওয়াসকির মতো এই রোগে নিউইয়র্কে ৭৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। যে শিশুর মৃত্যু হয়েছে তার বয়স পাঁচ বছর। কুমো এই মৃত্যুকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন। বিরল এই রোগ নিয়ে গবেষণা চলছ বলে জানান কুমো। এর আগে সর্বপ্রথম ব্রিটেনে একই রোগে এক শিশুর মৃত্যু হয়। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস সতর্ক বাণী দেয়।

ব্রিটেনে রাতারাতি লকডাউন শিথিল হচ্ছে না এমন আভাস দিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী। রবিবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটেনের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নির্দেশনা দিবেন। সেখানে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণাও আসতে পারে। তবে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রী জর্জ ইউস্টিস বলেছেন, রাতারাতি কোনও নাটকীয় পরিবর্তন হতে পারে না। আমরা আমাদের যে সীমাবদ্ধতার শিথিল করি সেভাবে আমরা খুব সতর্ক থাকি। আমরা অরণ্য থেকে বাইরে নই, কিছু সময়ের জন্য এই ভাইরাসের এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ব্রিটেনে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৬২৬ জন। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩১ হাজার ২৪১ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার। ইউরোপের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়ালো ইতালিতে। নতুন করে মারা গেছেন দেশটিতে ২৪৩ জন, এরফলে মোট এই সংখ্যা ৩০ সংখ্যা ২০১ জন। স্পেনে নতুন মৃত্যু ২২৯, মোট ২৬ হাজার ২৯৯ জন। ফ্রান্সে নতুন মৃত্যু ২৪৩, মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ হাজার ২৩০ জনে। তুলনামূলক কম মৃত্যু হয়েছে জার্মানিতে… । মোট মৃতের সংখ্যা… । এদিকে ১৫ জুন পর্যন্ত অ-প্রয়োজনীয় ভাবে ইউরোপ কেউ যেতে পারবেন না। ইউরোপীয় কমিশন ঘোষনা দিয়েছে ইইউ ভুক্ত ২৭ দেশ এবং যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ১০ মিলিয়ন মাস্কের স্টক পাঠাতে শুরু করবে। কমিশন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ১৭ টি সদস্য রাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে দেড় মিলিয়ন মাস্কের প্রথম ব্যাচ পাঠানো হবে।

করোনা ভাইরাসের নতুন হটস্পটে পরিণত হয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে এক সপ্তাহ থেকে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের উপর। গেল ২৪ ঘন্টায় নতুন আক্রান্ত ১০ হাজারের বেশি, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৭ হাজারে দাড়িয়েছে। নতুন মৃত্যু ৯৮ জন, মোট মৃত্যু ১ হাজার ৭২৩ জন।

আরেক নতুন হটস্পট ব্রাজিলে ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৮০৪ জন। মোট মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ৯ হাজার ৯৯২ জনে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার এর ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৪৫ হাজারে।

গত বছর ডিসেম্বরে চীনের উহানে মরণঘাতী ভাইরাসটি আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত সারাবিশ্ব জুড়ে মহামারী ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার । মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে । সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখ ৯৩ হাজার।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close