রাজনীতি

জাতীয় অস্থিরতার সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের উচিত ‘শান্তির দূত’ হয়ে ওঠা |

আমেরিকায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই জাতীয় অস্থিরতার সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের উচিত ‘শান্তির দূত’ হয়ে ওঠা। যেমনটা হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময়ে।কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটু অন্য ধরনের মানুষ। উনি জ্বলন্ত দেশের আগুনে ঘি ছিটিয়ে দিলেন। পাড়ার মাস্তানদের ভাষায় বললেন, ‘কুকুর লেলিয়ে দেব। ঠান্ডা করে দেব ওই সব আন্দোলনকে’! ঠান্ডা তো দূরের কথা, আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল মানুষের মিছিল।

মনে পড়বেই পল পারোর সেই কবিতা, ‘কিং ক্যানিউট’! দ্বাদশ শতাব্দীর ঘটনা।ডেনমার্কের রাজা ক্যানিউট তাঁর সৈকতপ্রাসাদের বারান্দায় বসে পারিষদদের বললেন, ‘দেখবে আমার ক্ষমতা! আমি বললেই স্তব্ধ হবে সাগরের ঊর্মিমালা’! রাজা যেই বললেন, ‘থামো’। থামা তো দূরের কথা, শত গুণ বেশি বেগে ধেয়ে এসে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ল রাজপ্রাসাদে। রাজা তখন পারিষদদের বললেন, ‘তোমরা যতটা মনে করো, আমি ততটা ক্ষমতাবান নই’! কোথায় যেন মিল। ট্রাম্পের ‘ঠান্ডা করার’ হুকুম শুনে কালোদের মারমুখী মিছিল দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়ল ‘সাদাবাড়ি’-তে।

নগরে আগুন লাগলে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। ভয়ার্ত প্রেসিডেন্ট প্রমাদ গুনলেন, আশ্রয় নিলেন হোয়াইট হাউসের বাঙ্কারে। ঠিক যে ভাবে লাল ফৌজের তাড়া খেয়ে অ্যাডল্ফ হিটলার আত্মগোপন করেছিলেন রাইখ চ্যান্সেলারির বাঙ্কারে। এর পরে কী হয়েছিল, সেটা ইতিহাস সম্যক জানে। আর সবাই জানে, মানুষকে শিক্ষা দিতে মহাকালের নিয়মেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

লেখক : দারুস সালাম শাকিল

সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close