বাংলাদেশসহযোগিতা

চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে কেউ না এগিয়ে আসলেও এসেছে ছাত্রলীগ

অনলাইন নিউজ, চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডে করোনাভাইরাসের লক্ষ্মণ নিয়ে মারা গেছেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধ করা জালাল উদ্দীন (৮০)৷ আর এতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন ভয়ে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের দাফনে কেউ আসেনি। তবে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা এগিয়ে এসে প্রশংসার জোয়ারে ভেসেছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও একাধিক ছাত্রলীগ নেতা এবং মৃত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। যিনি একজন পুলিস সদস্য। তারা মৃতের দাফন,গোসল সহ যাবতীয় কাজ করেন।

জানা যায়, ওই মুক্তিযোদ্ধা করোনার উপসর্গ জ্বর-সর্দি কাশিতে ভুগছিলেন। সাথে যোগ দিয়েছিল শ্বাসকষ্ট। তার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় এক পর্যায়ে থাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ঢাকা হয়। তবে করোনা সন্দেহে আসতে অস্বীকৃতি জানায় ওই সিএনজি চালক। পরে তাকে কোলে করে নিয়ে পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দীন।

তবে আশ্চর্যের ব্যাপার তার লাশ আসার পর প্রতিবেশিরা কেউই আসেনি। কবর খোঁড়ার জন্য কোদাল দেননি কেউই। এই বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক মো. শায়েস্তা খান একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে মানুষের এমন আচরণের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ যেভাবে আসছিল না, দিনেট বেলায়ই পরিবেশ ভুতুড়ে হয়ে গিয়েছিল। একটি কোদাল দিতেও আপত্তি ছিল সবার। গোসল দিতে কেউ আসছিল না। পরে তিনি এবং তার ছাত্রলীগ সহকর্মীরা এই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

আর ছাত্রলীগের এমন কাজের জন্য ভুয়সী প্রশংসা করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়। তিনি বলেন, শায়েস্তা খান সহ যে কয়েকজন এই কাজ করেছেন তা কল্পনাতীত। কেউ যেভাবে এগিয়ে আসছিল তারা যেভাবে লাশটি দাফন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close