আন্তর্জাতিক

গেম চেঞ্জার হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইন ওষুধ এখন ঝুকিপূর্ণ

কোভিড নাইন্টিনে ক্রমশ নাজুক পরিস্থিতি হচ্ছে লাতিন আমেরিকা মহাদেশ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাম্বা ফুটবলের দেশ ব্রাজিল। এছাড়া পেরু,ইকুয়েডর, চিলিতেও বাড়ছে করোনার প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, মহামারীর নতুন কেন্দ্রস্থল হতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর জরুরী বিশেষজ্ঞ ড.মাইক রায়ান বলেছেন, এক অর্থে দক্ষিণ আমেরিকা এই রোগের জন্য নতুন কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। ব্রাজিল স্পষ্টভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।

ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইন ব্যবহার নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেন মাইক রায়ান। এটি ব্যবহার ঝুকি বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, ব্রাজিলিয়ান কর্তৃপক্ষ কোভিড নাইন্টিন এর চিকিৎসার জন্য অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল ড্রাগ হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইনের ব্যাপক ব্যবহারকে অনুমোদন দিয়েছে। যা বর্তমান ক্লিনিকাল প্রমাণগুলো নতুন ঝুঁকির প্রেক্ষিতে নতুন রোগের বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত ওষুধের ব্যাপক ব্যবহারকে সমর্থন করে না।

এদিকে ম্যালরেরিয়া এই ওষুধ টি কে এবার ঝুকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট এক গবেষণা এই কথা উঠে এসেছে। খবর ছাপিয়েছে বিবিসি। প্রথম থেকেই হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইনকে গেম চেঞ্জার অ্যাখা দিয়েছিলেন খুদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওষুধটি খুবই কার্যকরী বলে আসছেন তিনি। গত সোমবার তো বিস্ময়কর তথ্য জানালেন ট্রাম্প। বললেন তিনি এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন একটি হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইন খাচ্ছেন। তার মাঝে করোনা ভাইরাসে কোনো লক্ষ্মণ বা উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও তিনি খাচ্ছেন। তার কাছে মনে হয়েছে ওষুধটি ভালো।

যদিও প্রথম থেকেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ওষুধটি না খাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। সতর্ক করে তারা বলেছেন, হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করবে এই ওষুধ। হতে পারে মৃত্যুও।

ল্যানসেটের গবেষণায় এবার আসলো এর সত্যতা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ সেবনে প্রকৃতপক্ষে রোগীর ঝুঁকি বাড়ায়। হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইন রোগীদের সেবায় কোনো উন্নতি হয় না। সমীক্ষায় ল্যানসেট আরো জানিয়েছে, হাসপাতালে যাদের হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইন ওষুধটি দেওয়া হয়েছে তাদের মৃত্যুর ঝুকি ও হার্টের জটিলতা বাড়ায়।

যারা হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইন গ্রহণ করেছেন তাদের মৃত্যুর হার ১৮ শতাংশ। যারা ক্লোরোকুইন গ্রহণ করেছেন তাদের মৃত্যুর হার ১৬.৪ শতাংশ। নিয়ন্ত্রণ গ্রপে এই হার ৯ শতাংশ। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সংমিশ্রণে হাইড্রোক্সাক্লোরোকুইন বা ক্লোরোকুইনের চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি আরো বেশি। এরজন্য গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো প্রকার ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ছাড়া এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close