বিশ্ব সংবাদআন্তর্জাতিকরাজনীতি

কিভাবে চীন আগামীর সবচাইতে বড় সুপার পাওয়ার এবং অলিখিত সাম্রাজ্যবাদী (পর্ব ১)

সজীব কান্তি দাশ :ইন্ডিয়াতে এখন হ্যাশট্যাগ বয়কট চীনা সেন্টিমেন্ট চলছে।কেও নিজেদের ড্রইংরুমে থাকা টিভি ভেঙে ফেলছে তো কে চায়নিজ খেলনা সহ নানা প্রোডাক্ট।সত্যি বলতে এটা হাস্যকর এবং চাইল্ডিশ কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়।আপনার পয়সা দিয়ে কেনা জিনিস আপনি ভেঙে ফেললেন।এতে অন্যের কি আসে যায়?

এসব টিভি বা চায়না প্রোডাক্ট ভেঙে নিজের লস করে বয়কট চায়না কথাটা খুবই হাস্যকর দেখায়।এর জন্য আপনাদের রুট কজেস্ট সম্পর্কে বুঝতে হবে।চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টি দুনিয়াতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে দিন দিনইকোনোমিক্যালি,পলেটিক্যালি,জিওগ্রাফিক্যালি কোন কোন নোংরা পন্থা অবলম্বন করে আজ তাঁরা আমেরিকার থেকেও বিগ ফিশ হবার দৌঁড়ে আছেসে পয়েন্ট গুলো নিয়ে আমি আলোচনা করবো আজ।

চায়নার কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বের সকল ডেমোক্রেসি দেশ গুলোর জন্য হুমকি।চায়নার কমিউনিস্ট পার্টি চায়নাতেই অলিখিত ডিক্টেটর হিসেবে ভিত্তি স্থাপন করেছে,এবং বিশ্বেও নিজেদের ভীত জমাতে চাচ্ছে।

যেমন ইকোনোমিক্যালি।

মেড ইন চায়না লিখা প্রোডাক্ট দুনিয়ার সকল দেশেই আপনি পেয়ে যাবেন।চায়না এতোটাই এক্সপোর্ট করে আসছে যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যেই চায়নাদের নামেই স্থান আছে বা মার্কেট।কিন্তু যখন ইমপোর্ট করার সময় আসে তখন দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক দিয়েই আপনারা ধারণা করুন।ইউটিউব, ফেসবুক, গুগল এমাজন এসবের অস্তিত্ব পর্যন্ত আপনি পাবেন না চায়নাতে।চায়না তাঁদের দেশে এসব আসতেই পর্যন্ত দেয় নি।এক্সপোর্ট এর সময় যত পারো এক্সপোর্ট করো আর ইমপোর্ট এর সময় যত কম পারো গ্রহণ করো।এটায় চায়নার পলেসি বা এক পেশি ট্রেড।।

তাঁরা বিশ্ব থেকে আইডিয়া চুরি করেই নিজেরায় নতুন সোশ্যাল মিডিয়ার সৃষ্টি করেছে।যেমন চায়নার ইউটিউব হচ্ছে #Youku,চায়নার এমাজন হচ্ছে #Alibaba
চায়াদের গুগল হচ্ছে #vayduএবং চায়নার ফেসবুক হচ্ছে #vaybo! তো চিন্তা করুন বাইরের দেশের সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত যদি চায়নাতে ইমপোর্ট না হয় তো অন্য জিনিস কি করে ইমপোর্ট হবে?

আইডিয়া চুরি করেই চায়না নিজেদেরই ক্লোন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যাতে অন্য বাইরের দেশের কোম্পানি ফায়দা না হয়।Intellectual property theft চায়না একদম সব সেক্টরেই করেছে।কোন দেশের মধ্যে যদি নতুন টেকনোলজি আসে তবে চায়নিজ রা সে কন্সেপ্ট চুরি করে নিজেরায় এর বিপরীতে কিছু দাঁড় করিয়ে দেয় ক্লোন করে তৈরি করে।এসব আপনি কোন ডেমোক্রেসি দেশে করতে পারবেন না।কারণ কপি রাইটে কোম্পানি গুলার মামলা করার অথোরিটি আছে। এবং জরিমানার অংক টাও ব্যাপক।কিন্তু চায়নাতে বার বার ক্লোন হচ্ছে।বরং তাঁদের ডিক্টেটর সরকারই তাঁদের উৎসাহ দিচ্ছে, প্রোমোট করছে এবং এসব আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচিয়েও রাখছে।আসলে চায়না ডিক্টেটর সরকার তাঁদের রুলই এমন করে তৈরি করেছে যাতে এসব ক্লোন কোম্পানির ফায়দা হয়।যেমন বাইরের দেশ থেকে কেও যদি চায়নাতে ব্যাবসা করতে আসে তবে তাঁর আইপি ট্রান্সফার করতে হয় তাঁর চায়নিজ পার্টনার কে।
এমন উদ্ভট রুলের কারণে ২০১৮ সালে ইইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কমিশন (ডাব্লিউ টি ও) অভিযোগ করে যে চায়না মিসকিউস করেছে।বরং চায়না বাইরের কান্ট্রিতে ফ্রিডম নিয়ে ব্যাবসা করে কিন্তু নিজ দেশে অন্যে কোম্পানির ব্যাবসা করার কথা আসলে তাঁরা বাধ্য করে অন্য কোম্পানি যেনো তাঁদের কাছে আইডিয়া শেয়ার করে।চায়নাতে ব্যাবসা করতে হলে ফ্রিতেই আইডিয়া শেয়ার করতে হবে।কারণ চায়নিজ পলেসিই এটাই।ঠিক এই কারণে আমেরিকা কে প্রতিবছর ৩০০-৬০০ বিলিয়ন ডলার লস করতে হয় চায়নার চুরির কারণে।

এবার আলোচনা করা যাক চায়নার ইকোনমির আরেক স্তম্ভ Dumping Strategy নিয়ে।কখনো ভেবে দেখেছেন বিশ্বে চায়নার প্রোডাক্ট এর এতো চাহিদা কেনো?কারণ হচ্ছে চায়নার প্রোডাক্ট সহজলভ্য এবং মূল্য কম।এখন ভাবুন এতো কম মূল্য দিয়ে তাঁরা প্রোডাক্ট বাজারে ছাড়ে কি করে?এতে কি তাঁদের কোম্পানি গুলোর লস হয় না?

ঠিক এই আলোচনার সাথে চায়নিজ সাম্রাজ্যবাদ এবং তাঁদের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং চায়নাতে আগামীর সুপার পাওয়ার এবং কতটা বিষাক্ত সে আলোচনাও করবো আগামী লিখাতে।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close