মুক্তমঞ্চ

কাঁটাও পুষ্পের বাগানে ৭১ বছর

বাবুল রহমান, কলামিষ্ট,যুক্তরাজ্য: সরকার বা আওয়ামী লীগের জন্য ২৩শে জুন তাৎপর্যপূর্ন দিন।২৩শে জুন ১৯৪৯ সাল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি ও আবুল হাসেমের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের একাংশ সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি,শামসুল হক সাহেব সাধারন সম্পাদক ও শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব যুগ্মসম্পাদকের হাত ধরেই ক্রমান্বয়ে ৭১ বছরের প্রাচীন দলটি আজ অবধি মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে তবে ত্রুটিবিচ্যুতি যে ছিলো না তা নয়। ১৯৫২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিমলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তিতে ৫৫ সালে ভাসানী সাহেবের উদ্দোগ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ করা হয় তবে সে সময় পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্র বিবেচনায় সংগঠনটির নাম ছিলো নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ এবং সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেব।উল্লেখ্য যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিলো তৎকালীন পাকিস্তানে প্রথম বিরোধী দল।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বসহ কয়েক দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। শুরুর দিকে দলটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতি, এক ব্যক্তির এক ভোট, গণতন্ত্র, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ।

ভাষা আন্দোলনসহ মুক্তিযোদ্ধের নেতৃত্বদানকারী এই দলের অসংখ্য অবদান সুস্হ স্বাভাবিক চিন্তা চেতনার মানুষ কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করে আমার বিশ্বাস যদিও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিজের দলের সাফাই গায়।পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেটাই বড় পাওয়া।
বাংলাদেশের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলিগ টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকাকালীন দৃশ্যত অনেক উন্নয়ন হয়েছে অনেকের আবার রাজনৈতিক দৃষ্টকোণ থেকে দ্বিমত থাকতে পারে।

অনেক ডাকসাইটে নেতার আভির্বাব হয়েছে তবে বিশ্বাসঘাতকও যে কম ছিলোনা তা বলা যাবেনা তা না হলে ৭৫ সালের নির্মম নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের শিকার হতোনা জাতির স্তপতির পরিবার।বঙ্গবন্ধুর লাশ সিঁড়িতে থাকাবস্হায় অনেকেই সরকারে যোগ দেন,আজ তারা নিজস্ব যুক্তির ভিত্তিতে সেদিন কেন যোগ দিয়েছিলেন বর্ণনা দিচ্ছেন।সবাই কি সেদিন বন্দুকের নলের ভয়ে যোগ দিয়েছিলেন,না নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তা নিশ্চয়ই আজকের প্রধানমন্ত্রী খতিয়ে দেখেছেন।

ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাত্র তিন হাজার টাকার শুল্কের বিনিময়ে ব্যবসার সুযোগ পায় কিন্তু আস্তে আস্তে সূদুরপ্রসারি রাজনৈতিক খেলা ও ধঃস্বাত্মকের দিকে এগুতে থাকে।২৩শে জুন ১৭৫৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পলাশী নামক স্হানে যুদ্ধ হয়েছিল ইংরেজদের সাথে।১৭৫৬ সালের মাঝামাঝি বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দোলা মাত্র ২২ বছর বয়সেই নবাবী হাতে নিয়েছিলেন কিন্তু ইংরেজরা কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছিলোনা তার অন্যতম কারন তিনটি শর্ত ছিলো নবাবের ফোর্টউইলিয়াম প্রাচীর ও সংস্কার বন্ধ,অবৈধ্য ব্যবসা বন্ধ ও নবাবের অবাধ্য প্রজাদের হস্তান্তর।ইউরোপের বণিকরা বানিজ্যিক সুবিধার্তে রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্হায় হস্তক্ষেপ শুরু আধিপত্য বিস্তার ও সাম্রাজ্য গড়তে মরিয়া হয়ে উঠে।বাংলার প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ও নবাবের খালা ঘষেটি বেগম নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে।অধিক সংখ্যক সেনাপতি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত আট ঘন্টার যুদ্ধে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব ইংরেজদের কাছে পরাজিত ও নিহত হন।বাংলায় ব্রিটিশদের আধিপত্য বিস্তার ঘটে সেইসাথে সমগ্র ভারতবর্ষকে গ্রাস করে।৬৭ বছর (১৭৫৭ সালের পূর্বে )যখন ইষ্ট ইন্ডিয়া বাণিজ্যিক ও বসবাসের সুবিধা পায় তখন শায়েস্তা খানের সাথেও ইংরেজদের দ্বন্দ লেগে যায় পরে কলকাতায় বসবাসের অধিকার পায় সেখানে তিনটি গ্রাম কিনে ও ফোর্টউইলিয়াম দূর্গ স্হাপন ও পরবর্তিতে প্রথম জমিদারি প্রথা শুরু করে।পরে অবশ্য অনেক গ্রাম কিনতে সক্ষম হয়।
আজ আওয়ামিলীগের ৭১ বছরে স্মরণ করিয়ে দেয় ইংরেজদের দাবা খেলার সময় লেগেছিলো ৬৭ বছর ঐসব গুটিকয়েক ক্ষমতা পদলোভি মীর জাফরদের কারনেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনার আশেপাশে ঐসব ঘষেটি বেগম বা মীর জাফর নেই আপনি কেমনে বুঝবেন.! সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের সাথে যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন খন্দকার মোশতাক,আগষ্ট ৭৫ পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত বিরাট শক্তিধর নেতা।কালো কাপড়ের দাম বেড়ে গেছে,দর্জির দোকানে ভিড় লেগেই আছে,দর্জিওয়ালা হিমশিম খাচ্ছে এতসব মুজিবকোট বানিয়ে দিতে।ওরা সময়ের সুযোগে শেরওয়ানি পরতে কষ্ট পাবেনা,কষ্ট পাবে আদর্শের মুজিব সৈনিকেরা যাদের টাকা নেই নির্বাচন করতে।নমিনেশন বাণিজ্যের কাছে সারাজীবনের জনবান্ধব রাজনীতি হার মানে,পরিবারকে সময় না দিয়ে রাজপথে জীবনের মূল্যবান সময়টুকু পার করে।এইদলে অনেক নেতা আছে যারা যে কাউকে মার্কা দেন কিছুই বলবেনা শুধুই আপনাকে বাহবা দিয়ে যাবে কারন ওদের রক্তের মধ্যেই ঐ ব্রিটিশ শাষনামলের তোষামোদি মিশে আছে কিন্তু আপনার দরকার যে আপনাকে সাহস করে বলতে পারে আপা ঐ লোক দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও জনগনের জন্য কিছুই করেনি।আবারো সবিনয়ে স্মরণ করিয়ে দেই সিরাজউদ্দোলার সৈন্য সংখ্যা অনেক থাকার পর হারতে হলো কেননা তার দলেই ঘাপটি মেরে বসা লোক রাতের আঁধারে হাটবাজারে বিক্রী হয়েছিলো।আজ দীর্ঘদিন আপনার দল ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন লাখো কোটি নেতা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ না আর কিছু বললেও বেমানান হবেনা।বৈশ্বিক এই ক্রান্তিলগ্নে চাল চুরি ডাল চুরি করেই যাচ্ছে,ব্যাংক বীমা সব লুটে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছুই কি করার নেই।আজকের এসব লুটেরা অন্য মতাবল্মবির হওয়ার কথা নয়,থাকলে দুচারটা হতে পারে তবে আপনার দলের ছত্রছায়ায় চালিয়ে যাচ্ছে।এইসব লুটেরার দল গরীবের অর্থ আত্বসাৎ করে দেশে বিদেশে নামে বেনামে অনেক কল কারখানার মালিক হয়েছে এমনকি দেশেও বহু ক্লিনিক হাসপাতালের মালিক কিন্তু আশ্চর্য্য হলেও সত্য এই করোনাকালে জনগণকে সেবা দিতে অনিচ্ছুক।ওরা শুধু সিজার করে বাচ্চা ডেলিভার নতুবা বিভিন্ন রোগের টেষ্ট করিয়ে নিরীহ মানুষের পকেট খালি করছে।জনগণ কি এ জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলো.!এই কি স্বাস্হ্য সেবার মান তবে কভিড মোকাবিলার কথা বলছিনা এই মূহুর্তে সার্বিক ব্যবস্হাপনা মনে হচ্ছে ভঙ্গুর।জনগণের মৌলিক চাহিদার একটি স্বাস্হ্যসেবা সেটা কতটা মান সম্পন্ন তা বুঝতে হলে বেশী বলতে হবেনা,আপনার দলের বড় নেতা এমপি মন্ত্রী বা ধনাট্য ব্যবসায়ীরা কেন দেশে সেবা নিচ্ছে না..! প্রশাসনিক দূরাবস্হার দায় বিগত সরকারের উপর পড়েনা,দীর্ঘ বারো বছর ক্ষমতায় থেকে উত্তরণের রাস্তা না পেলে সমস্ত দায়ভার ক্ষমতাসীন দলের উপর বর্তায়।সাধারনত পৃথিবীর সব দেশে বড় বড় বিজনেস ম্যানরা সরকারকে ডমিনেট করে তারমানে এই নয় সরকারকে পুরো গিলে ফেলবে।অবস্হা দৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশটা নব্য ধনাট্যের কবলে আর সরকার বাধ্য হচ্ছে মেনে নিতে।কারণ বেশীর ভাগ ব্যবসায়ীরা সংসদ দখল করে নিয়েছে কালো টাকার বদৌলতে,ওরা তাদের পার্পাস সার্ভ করতে মরিয়া হয়ে উঠে,ওরা জনগণের সেবক হিসেবে নয় ওরা সম্পদ লুন্ঠনকারী।প্রতিষ্ঠাকালিন মানুষের মত খুব কম মানুষ মিলবে বর্তমান রাজনীতিতে,আজ এটা ব্যবসায়ে পরিণত,আর বড় দলগুলো নির্বাচন বাণিজ্যে এক ধাপ এগিয়ে।আফসোসের কিছু নয় কোরবাণীর হাটের মত এই বাণিজ্য যদি চলে জনগণকে বলির পাঠা তো হতেই হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,নিম্ন বা মধ্য আয়ের মানুষেরা তেমন ভয় পাচ্ছেনা,তারা বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে,ভয় পাচ্ছে তথাকথিত এলিট যারা সামান্য সর্দি কাশি হলে বিদেশে পাড়ি জমান।আজ মৃত্যু ভয়ে নিদারুন কষ্টে আছে তারপরও দুচারটা ভেন্টিলেশন দিতে মন চায়না। আমরা সবাই কমবেশী জানি পাকিস্হান পিরিয়ডে বাইশ পরিবারের কাছে জনগণ জিম্মি ছিলো আজ কয়েক হাজার পরিবারের কাছে গোটা জাতি বন্দি।নির্বাক চিত্তে অবলোকন ছাড়া কিছুই করার নেই,তাদের দাপটের কাছে সোনার বাংলার স্বপ্ন নস্যাৎ। এমনকি মাঝেমাঝে সরকারকেও মনে হয় বড় অসহায়,তাদের শেঁকড় এতই গভীরে,ডালপালা এমনভাবে গজিয়েছে সরকারও বেকায়দায় পড়ে যায়।সোনার বাংলাদেশ গড়ার নিমিত্তে জীবন ও পরিবারকে নিয়তির কঠোর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েও আজ যেন কবরে আত্বার উপর জুলুম হচ্ছে,প্রতিনিয়ত সোনার স্বপ্ন পদদলিত হচ্ছে।

কিছু দলীয় নেতারা সার্থের বিনিময়ে দেশকে অন্ধকারের গহীনে নিতে চাচ্ছে,দিনেরাতে মুজিবকোট গায়ে দিয়ে চললেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারেকাছেও নায়।কে জানে রাতেও মুজিবকোট পরনে থাকে কিনা।চৈত্রের ভরা খরা মৌসুমেও এই কালো কোট পরে আপনার আশপাশে থেকে গুডবুকে নিজেকে লিপিবদ্ধ করতে চায়।নিঃসন্দেহে বলতে পারি দেশ চালনায় আপনি একজন দক্ষ নাবিক,চিন ভারত রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সাথে সুসম্পর্ক রেখেই উন্নয়নের হাল ধরেছেন তবে ঐসব ধান্দাবাজদের দূর্ণীতির দায় আপনার উপর বর্তায়।

কেন আপনি তাদের অভিশাপের বোঝা কাঁধে নিবেন,সত্যি আপনি পারবেন কিন্তু দলের পরিবর্তন আনতে হবে,যারা আপনার শক্তির মুল চাবিকাঠি তাদেরকে সামনের সারিতে এনে ঢেলে সাজাতে হবে।এখনি সময় নতুন নেতৃত্বের,বিকাশ ঘটান নবীনের,সংখ্যায় অতি অল্প যারা ব্যক্তি বা পারিবারিক ইমেজে জয়ী হন ভোটের ময়দানে,তাহলে ভয় নেই নৌকা চলছে চলবে নবীনদের হাতেও। নবীনরা দেশ গড়তে আপনাকে আরো বেশী সহায়তা করবে।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানতে পাই টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে তবে সত্যতা জানিনা সোনার বাংলা শ্মশান হওয়ার আগে শায়েস্তা করুন ঐসব হারামীখোরদের প্লীজ।এতসব উন্নয়ন আজ হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে।আর কত বিরুধী দলের কথা বলে দেশ চালাবেন,ওদের ভুলের মাশুল হয়ত দিচ্ছে কিন্তু আপনার সরকারের সব সুণাম গুটিকয়েক অসৎ লোকের জন্য ধূলিস্যাত হচ্ছে।ইদানীং আপনার স্বাস্হ্য মন্ত্রানালয়ের অবস্হা শোচনীয়,মনে হয় মন্ত্রী সাহেবকে ওএসডি করে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া অতীব জরুরী,সেক্ষেত্রে শামীম ওসমানকে দিলে হয়ত গতি বৃদ্ধি পাবে কেননা উনার বক্তব্য বর্তমানে সুস্পষ্ট। পরিশেষে বলি এ কেমন অত্যাচার,এ কেমন নিপীড়ন বাংলার জনগণের উপর..!মনে হচ্ছে প্রাচীন প্রাজ্ঞ দলটি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জোরপূর্বক জনগণকে ধর্ষণ করে যাচ্ছে। জয় হোক বাংলার মানুষের জয় হোক মানবতার,দীর্ঘজীবি হোক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

Show More
Back to top button
Close
Close