বাংলাদেশস্বাস্থ্য

করোনা ভাইরাস নিয়ে ট্রাম্পের যত কান্ড

আজ-কাল, অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের ভয়াল তাবা অব্যাহত চলছে। একেকটা দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের দিনটাকে। করোনা নামের অদৃশ্য এই ভাইরাসে নাকাল উন্নত বিশ্ব।প্রমাণিত হলো আধুনিক বিশ্বের বিজ্ঞানের এত উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কার করোনা ভাইরাসের কাছে রীতিমতো অপ্রতুল। কোভিড নাইন্টিনে রীতিমতো কোনঠাসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য দেশ। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশে দেশে মৃত্যুর ও আক্রান্তের সংখ্যা।

এত কিছুর মধ্যেও চলছে বৈশ্বিক রাজনীতি, একে অপরের সাথে কাঁদা চোরাচুরি। একের পর এক বেরসিক মন্তব্য করে সমালোচনা ও বিনোদন দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যেমন মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কে সাময়িক অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনকে এই ঘোষণা দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ, মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ। সংক্রমণের প্রথমদিক থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনকে সমর্থন দিচ্ছে এবং পক্ষ নিয়ে নিচ্ছে।

এসময় ট্রাম্প বলেন, ভাইরাসটি চীনে উৎপত্তির পর থেকে এটি মোকাবেলায় দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে ডব্লিউএইচও। সাথে তারা চীনের দেওয়া তথ্যেই তারা বিশ্বাসী হয়ে বসে আছে। আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অর্থ বন্ধ করতে এবং নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে সমালোচনা ঝড় উঠেছে বিশ্ব জুড়ে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, করোনা ভাইরাসে মোকাবেলায় ঠিক এমন সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো সংস্থায় অর্থ দেওয়া বন্ধ করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নয়। যারা ভাইরাস মোকাবেলা অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন,সামনে থেকে সংস্থাটি তার সদস্য দেশগুলোতে সাহায্য করবে তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অবশ্যই সাহায্য করতে হবে। না হলে সংকটের মধ্যে পড়তে পারে সারা বিশ্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের পর ডব্লিউএইচও তে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া যুক্তরাজ্য অবশ্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থবোধ করে না বলে জানা গেছে। দেশটি মনে করছে করোনা মোকাবেলা বিশ্বজুড়ে সংস্থাটি অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই সময়ে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ হলো ডব্লিউএইচও তে অর্থ দেওয়া। চীন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বন্ধ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক ভাবে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রভাব ফেলবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে,ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। তারা মনে করছে,এই মুর্হুতে কোভিড নাইন্টিন মোকাবেলায় ডব্লিউএইচও সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন,ডব্লিউএইচও কাছ থেকে এখন ভরসার পরামর্শ পান।

সমালোচনা হচ্ছেখুদ যুক্তরাষ্ট্রেও। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বিষয়টি আবার পুনর্বিবেচনা করার। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্তকে রীতিমতো বিপদজনক মনে করেন মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। বিশ্বের অন্যতম ধনী এই ব্যক্তি টুইটারে এক টুইট করে বলেন,সংকটের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অর্থ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিপদজনক। তিনি আরো বলেন, অন্য যেকোনো মুর্হুতে চেয়ে এখন সংস্থা কে বেশি প্রয়োজন এবং ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এই সময়ে যে সংস্থা সেটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ট্রাম্পের এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন মার্কিনীরা। অনেকে বলছেন তিনি প্রতিদিন হোয়াইট হাউসে করোনা ভাইরাস নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে নির্বাচনের প্রচারনার কাজ করছেন।

এর আগে জানুয়ারি থেকে মরণঘাতী কোভিড নাইন্টিন কে চীনা ভাইরাস বলেন। এজন্য তিনি চীনকে রীতিমতো ভাইরাসটি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন। শুধু ট্রাম্প নন ট্রাম্পের সহযোগীরাও করোনা ভাইরাসকে চাইনিজ ভাইরাস কটাক্ষ করেন। এর প্রতিবাদ করেন খুদ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে করোনা ভাইরাসে নাকাল নিউইয়র্ক সিটির মেয়র ডে ব্লেসিও।বলেন এটা এশিয়ান — আমেরিকানদের মাঝে ফারাক সৃষ্টি করবে৷ অনেকে এটাকে বর্ণবাদী বলে মন্তব্য করেন।

আর চীনা কতৃপক্ষ জবাবে মহামারি করোনা ভাইরাসের সৃষ্টি কর্তা হিসেবে উল্টো যুক্তরাষ্ট্র কে দায়ী করছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, উহানে করোনা ভাইরাস মার্কিন সেনারা এনেছে। আর যখন থেকে করোনা ভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমন শুরু হয় তখন ট্রাম্প বলেন আসছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু ক্রমশই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে থাকলে উল্টো দুষছেন বিরোধীদের অসহযোগিতা, বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ কে। যা রীতিমতো রোষানলে ফেলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close