আন্তর্জাতিক

করোনা ভাইরাস দমনে যথেষ্ট সময় ছিল :ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) লক্ষণ ছাড়াই বাচ্চাদের মধ্যে করোনভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে। এজন্য তারা শিশুদের মধ্যে করোনভাইরাস এবং বিরল প্রদাহজনক সিনড্রোমের মধ্যে লিঙ্কটি অনুসন্ধান করছে ডব্লিউএইচও।

মহামারীর ফলে জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থায় রয়েছে এবং আর্ন্তজাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিএইচও) শুক্রবার বলেছে যে তারা আশা করছে যে চীন করোনা
ভাইরাসটির উদ্ভিদ উৎস সম্পর্কে তদন্তে অংশ নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানাবে। বার্তা সংস্থা এএফপি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসেরেভিচের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।

ডব্লিউএইচও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ করতে এবং চীনা সরকারের আমন্ত্রণে পশুর উৎস সম্পর্কে তদন্তে অংশ নিতে আগ্রহী হবে। জাসারেভিচ এএফপিকে এক ইমেইলে জানিয়েছেন।

মহামারি করোনা ভাইরাসের সৃষ্টি চীনের উহানের একটি ল্যাবে। এমনটা দাবি করে চীনকে বারবার দুষছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাইজে ট্রাম্প দাবি করে বলেন,উহানের ল্যাবে করোনা ভাইরাস সৃষ্টি হয়েছে। এর জাবাবে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরী বিভাগের চিফ ড. মাইকেল রায়ান বলেছেন, নভেল করোনা ভাইরাস উহান ল্যাব থেকে ছড়ায়নি ডব্লিএইচএইও বিজ্ঞানীদের সাথে পরামর্শ করেছে এবং তিনি নিশ্চিত হন যে এই ভাইরাসটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি।

বৃহস্পতিবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তদন্ত করে জানায়, করোনা ভাইরাসে মানুষের সৃষ্টি নয়। তবে পশু বা ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর মহাপরিচালক ট্রেডোস আধানম গেব্রেয়াসিস বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রুখতে যথেষ্ট সময় বিশ্ব বাসীর কাছে ছিল। তিনি বলেন, জানুয়ারীর ৩১ তারিখ তার সংস্থা সঠিক সময়ে ভাইরাসটিকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে। তখন মাত্র চীনের বাইরে ৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হন এবং কোনো মৃত্যু হয়নি।

ট্রেডোস বলেন, আমরা প্রথম থেকেই পরিষ্কার করে দিয়েছি, প্রতিটি দেশ আক্রান্ত, আইসোলেট, পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং প্রতিটি বিষয়ে যোগাযোগের জন্য একটি বিস্তৃত প্যাকেজ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছি।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে সংস্থাটি সবচেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বন্ধ করে দিয়েছেন আর্থিক সহায়তা। পাশাপাশি সংস্থাটিকে চীনের মুখাপেক্ষী বলেন তিনি।

এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কেমন সম্পর্ক বিরাজ করছে ডব্লিউএইচও’র ? এমন প্রশ্নে টেড্রস বলেন, আমরা আসলে স্থির যোগাযোগে আছি এবং আমরা একসাথে কাজ করছি।

কোভিড নাইন্টিন মহামারীর ফলে এখন বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরী বলে নিশ্চিত করে টেড্রস বলেছিলেন যে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেশগুলিতে তীব্র তর ভাবে শুরু হওয়া শুরু হচ্ছে এবং তিনি এই রোগের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ডব্লিএইচও এর জরুরী বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, কিছু দেশ লকডাউন ব্যবস্থা সহজ করার প্রক্রিয়া করতে শুরু করেছে, তবে তারা গুরুত্বপূর্ণভাবে সংক্রমণের ঝুকির দিকে ক্রমাগত নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে কিছু ব্যবস্থায় কড়াকড়ি করছে।

টেড্রোস বলেছেন, দেশগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক যাত্রী যাতায়াত পুনরায় শুরু করার জন্য দেশ চাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সেবা গুলো তারা করতে পারবে।

ইথিওপিয়ায় জরুরি সহায়তা হিসেবে ৪১১ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিল আইএমএফ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর এক্সিকিউটিভ বোর্ড বৃহস্পতিবার কোভিড নাইন্টিন মহামারী মোকাবেলায় ইথিওপিয়ায় জরুরি সহায়তা হিসাবে ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমোদন করেছে।

আইএমএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে করোনা ভাইরাস মহামারীজনিত কারণে ইথিওপিয়া একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হচ্ছে এবং এর জন্য অর্থের একটি জরুরি ভারসাম্য দরকার।

দেশটিতে মহামারী মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং ইথিওপিয়ান অর্থনীতিতে চরমক ঝুকিতে ফেলেছে। মহামারীর ফলে দেখা দিতে পারে চরম স্বাস্থ্য সেবার ঝুকি।

সুতরাং, এই জরুরি প্রয়োজনের সমাধানের জন্য, আইএমএফ দ্রুত দেশটির জন্য 411 মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি সহায়তা প্রদানের অনুমোদন দেয়।

জিম্বাবুয়েতে বাড়লো লকডাউন, ৭২০ মিলিয়ন ডলার প্রণোদনা ঘোষণা প্রেসিডেন্টের।

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট ইমারসন মানাঙ্গাগওয়া নতুন করে করোনা ভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী লকডাউনআরও দু’সপ্তাহ বাড়িয়েছেন এবং পাশাপাশি 720 মিলিয়ন ডলার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটি মার্চ মাসে প্রথমে তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছিল এবং তারপরে লকডাউন আরও বাড়ায়। লকডাউন এরফলে দরিদ্র এই দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রা, খাদ্য, বিদ্যুত এবং ওষুধের তীব্র ঘাটতির সাথে লড়াই করে এমন একটি অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সাব-সাহারান নিয়ে আতংকিত ডব্লিউএইচও।

উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে নতুন করোনভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানায় তারা৷

বুধবার সংস্থাটি জানায়, সাব-সাহারান আফ্রিকান অঞ্চলে প্রায় ২৩,৮০০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত ও ৯০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি দেশ বড় বড় শহরগুলিতে লকডাউন জারি করেছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা-সকাল-ভোর কারফিউ এবং আন্তঃনগর ভ্রমণে বিধিনিষেধ জারি করেছে, তবে বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ লকডাউন বন্ধ করে দিয়েছে।

ডব্লিউএইচও এর আফ্রিকান অঞ্চলের পরিচালক মাতশিদিশো মোতি বলেছেন,আমরা পশ্চিম আফ্রিকা সম্পর্কে খুব উদ্বিগ্ন যেখানে আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশে ছড়িয়ে পড়তে দেখছি।

এদিকে পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশ যেমন ঘানা এবং বুর্কিনা ফাসোতে অর্থনীতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে করোনা ভাইরাস।

আফগানিস্তানে ৭৩ লাখ শিশুর খাদ্য সংকটে পড়বে। এমন আশংকা প্রকাশ শিশুদের আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্যা চ্রিলডান। সংস্থাটি বলছে, করোনা ভাইরাসের কারণে মার্চ থেকে লকডাউন দেশটি। আর তাই নিম্ন অর্থনীতির এই দেশে প্রভাব পড়েছে খাবার পণ্যের। দাম বেড়েছে কয়েকগুন এবং খাদ্যের সংকটে পড়েছে দেশটিতে। এরফলে আফগানিস্তানে সাথে ৭০ লাখ শিশুরা এর ভুক্তভোগী হতে পারে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিএফপি) আশংকা করে বলেছে, আফগানিস্তানের জনগণের এক তৃতীয়াংশ খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছেন।

এদিকে ডব্লিএইচওর জরুরী বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, হাইতি, সোমালিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান, সিয়েরা লিওন এবং উত্তর নাইজেরিয়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সংস্থাটি খুবই উদ্বেগে রয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close