আন্তর্জাতিক

করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ছুঁই ছুঁই

অনলাইন ডেস্ক ঃ

করোনা ভাইরাসে দিশেহারা একবিংশ শতাব্দীর উন্নত বিশ্ব। করোনার কাছে রীতিমতো অপ্রতুল যুক্তরাষ্ট্র – যুক্তরাজ্য কিংবা ইতালি, স্পেনের চিকিৎসা ব্যবস্থা। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমন ও মৃত্যুর সংখ্যা। নিউইয়র্ক, লন্ডন,প্যারিসের মতো শহরগুলোতে সুনশান নীরবতা। নীরব-নিস্তব্ধ সারা বিশ্ব। দেশে দেশে লকডাউন জারি থাকায় চার দেয়ালে বন্দী ২৫০ কোটি মানুষ।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু। তাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন যেন মৃত্যুপুরিতে রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায়ও অব্যাহত মৃত্যুর মিছিল। মারা গেছেন ৬ হাজার ১৮২, আক্রান্ত রেকর্ড ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ। ইউরোপের দেশগুলোতে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভাইরাসটির প্রকোপ কমলে যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত মৃত্যুর মিছিল।

করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মহামারি এই ভাইরাসে নতুন করে গত ২৪ ঘন্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৫৯ জন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩৯ হাজার। এই নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২ হাজার ১৯৩ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ২৫ হাজার।

দেশটিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। গেল ২৪ ঘন্টায় নতুন করে প্রাণ গেছে ৪৩০ জন। আক্রান্ত ৮ হাজার ৮৬৪ জন। মোট প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ২১ হাজার, আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো শুক্রবারের গবেষণায় দেখিয়েছেন যে করোনভাইরাস প্রথমে চীন থেকে নয়, ইউরোপ থেকে তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করেছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষিদ্ধ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলি এর বিস্তার আটকাতে অনেক দেরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮৪ বিলিয়ন ডলারের বিল স্বাক্ষর করেছেন যা করোনাভাইরাস মানসিক চাপে নিয়োগকর্তাদের এবং হাসপাতালগুলিকে সহায়তা করা হবে। এদিকে মার্কিন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস বলেছে যে করোনভাইরাস কারণে অর্থনৈতিক মন্দা ঘাটতি কাটাতে সম্ভবত প্রণোদনা প্যাকেজ এ বছর ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন আরো ৭৬৮ জন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৫ হাজার মানুষ। এই নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫০৬ জনে। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিতের সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার অতিক্রম করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত কীভাবে লকডাউনটি শিথিল করতে ইচ্ছুক নয় বলে জানা গেছে। তবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় আসতে পারে এই আশংকায় বাড়তি চাপে আছে বরিস জনসনের সরকার।

করোনা ভাইরাসে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ স্পেনে দৈনিক করোনাভাইরাস মৃত্যুর সংখ্যা শুক্রবার এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কমেছে। গত ২৪ ঘন্টার মারা গেছেন ৩৬৭ জন। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ২২ হাজার ৫২২ জনে দাঁড়ালো। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার। স্প্যানিস সরকার মহামারীটির সবচেয়ে তীব্র পর্যায়টি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় কারণ ইউরোপে মধ্যে অন্যতম কঠোর লকডাউন দেশটির সমস্যা নিরসনের মানদণ্ড তৈরি করেছিল।

আরেক মৃত্যুপুরি ইতালিতেও ক্রমান্বয়ে কমছে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে মারা গেছেন ৪২০ জন। এই নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৫ হাজার ৯৬৯ জনে। যা যুক্তরাষ্ট্রের পর সর্বোচ্চ। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ইতালিতে ১ লাখ ৯২ হাজার। এদিকে এপ্রিল মাসে সংক্রমনের নমুনার ভিত্তিতে পৃথক গবেষণা বলেছে যে ৪৩.১ শতাংশ সংক্রমণ দেখা গেছে নার্সিংহোমে সংক্রমিত হয়েছেন। ২৪ শতাংশ মানুষ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন পরিবার থেকে, আর ১০.৮% লোক হাসপাতালে ভাইরাসটি ধরা পড়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে ৪.২% ছিল।

এদিকে ইতালির একদল গবেষক মনে করছেন সম্ভবত চীন থেকে নয় জার্মানি থেকে জানুয়ারীর শেষদিকে করোনা ভাইরাসে ইতালিতে ছড়িয়েছে।

করোনা ভাইরাসে হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা ফ্রান্সেও কমছে মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৩৮৯ জন। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার। এদিকে একটি ফরাসী আদালত রায় দিয়েছে যে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনকে করোনা ভাইরাস সংকটের সময় আইটি পণ্য, স্বাস্থ্য সামগ্রী, খাদ্য ও পোষা খাবারের জন্য ফ্রান্সে সরবরাহ করা সীমাবদ্ধ করতে হবে। ফ্রান্স এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নার্সিং হোম পরিদর্শনে বিধিনিষেধ শিথিল করে, পরিবারের সদস্যদের এক মাসেরও বেশি সময় পর তাদের প্রিয়জনদের সাথে দেখা করতে দেয়।

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে অনেকটা কম মৃত্যুর সংখ্যা। নতুন করে মারা গেছেন ১৮৫ জন। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৬০ জনে দাঁড়ালো। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার।

এদিকে ইউরোপ, আমেরিকার পর সবচেয়ে বেশি কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত হয়েছেন তুরস্কে। বিশ্বের ৬ষ্ঠ দেশ হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে তুরস্কে। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬০০ জনের। নতুন মৃত্যু ১০৯ জনের।এশিয়ার দেশ ইরানেও কমছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। নতুন মৃত্যু ৯৩ জন। এখন পর্যন্ত ইরানে করোনা ভাইরাসে প্রাণ গেছে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের। আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৬ জন মানুষ । আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লাখ ৩৪ হাজার অতিক্রম করেছে।


এই অবস্থায় শুক্রবার বিশ্ব নেতারা বৈশ্বিক মহামারী কোভিড নাইন্টিন এর বিরুদ্ধে পরীক্ষা, ওষুধ এবং ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ ত্বরান্বিত করার এবং বিশ্বজুড়ে তাদের ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লুএইচও) উদ্যোগের উদ্বোধনে অংশ নেয়নি।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল ম্যাকরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা যারা এই মহামারীটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ডব্লিউএইচওর “যুগান্তকারী সহযোগিতা” হিসাবে বিলটি দিয়েছিলেন তা চালু করার জন্য একটি ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এসময় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্ধের অবসানে ঘটবে আশা করে বলেন, করোনা ভাইরাসের এর বিরুদ্ধে লড়াই একটি সাধারণ বিষয় এই যুদ্ধে জয়লাভের জন্য মানুষের মঙ্গল এবং কোনও বিভাজন থাকা উচিত নয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close