আন্তর্জাতিকব্রেকিং নিউজ

করোনা তাণ্ডব সমাপ্তির পথে, মিললো গাণিতিক সমাধান

পুরো বিশ্বে এবার আতঙ্কের অপর নাম কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। শুরুটা গত বছরের শেষে চীনের উহান শহর থেকে শুরু হলেও বর্তমানে বিশ্বের ১৯৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে এর উৎপত্তি হলেও ইতিমধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি ও স্পেন। ইতালিতে ১০,৭৭৯ জন এবং স্পেনে মারা গেছেন ৬,৮০৩ জন। এরপরের অবস্থানেই আছে আমেরিকা, ইরান ফ্রান্সের মতো দেশগুলো। ১৯৯ দেশ মিলিয়ে এপর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ২২ হাজার ২০২ জন। যেখানে মৃতের সংখ্যা ৩৩,৯৭৬ জন আর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ১৫১,৭৭৬ জন।

একটির পর একটি দেশে যখন করোনা তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই মূহুর্তে স্বস্তির খবর জানালেন ২০১৩ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়োলজির প্রফেসর মাইকেল লেভিট। করোনার বিস্তার নিয়ে তিনি জানান, ভাইরাসটির তাণ্ডব নাকি এখন সমাপ্তির পথে। তার ব্যাখ্যায়,

‘চীনের হুবেই প্রদেশে যখন দিনে ৩০ ভাগ মানুষ আক্রান্ত হওয়া শুরু করল, তখন অবশ্যই সেটি আতঙ্কজনক পরিসংখ্যান ছিল। যদি আক্রান্তের হার এভাবেই বাড়ত, তবে ৯০ দিনে পুরো পৃথিবীর মানুষ এতে আক্রান্ত হতো। যদিও আমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বিশেষজ্ঞ নই, তবু আক্রান্তের সংখ্যা ও তার বৃদ্ধি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সম্ভাবনার কথা বলতে পারি।

চীনে নতুন রোগীর সংখ্যা ১৮০০, ষষ্ঠ দিনে ৪৭০০। আবার ৭ ফেব্রুয়ারি এ সংখ্যা ক্রমাগত কমে আসে এবং হ্রাস অব্যাহত থাকে। ঠিক এক সপ্তাহ পর, মৃতের সংখ্যাও কমতে থাকে। আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়ার এ পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা যায়, মহামারী খুব দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে। চীনে শুরুর দিকে প্রত্যেক কভিড-১৯ রোগী দিনে দুই দশমিক দুজন ব্যক্তিকে আক্রান্ত করেছে। এই উচ্চমাত্রার সংক্রমণের কারণে বিপর্যয় হতে পারত আরও বেশি। কিন্তু আক্রান্তের হার কমতে কমতে বর্তমান সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।’

করোনার বিস্তার কিভাবে সমাপ্তির পথে সেটা বুঝানোর জন্য একটি গাণিতিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মাইকেল লেভিট। তিনি বলেন,

‘একজন ব্যক্তি ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন। যদি সে অর্থের বিপরীতে প্রথম দিন তিনি ৩০ শতাংশ সুদ পান এবং দ্বিতীয় দিন পান ২৯ শতাংশ, তাহলেই বোঝা যায়, তিনি শেষ পর্যন্ত খুব বেশি সুদ পাবেন না। সুদ কমলেও টাকা উপার্জন অব্যাহত থাকবে। যে আসল জমা ছিল তা কিন্তু কমবে না। এতে সুদের জোগান যুক্ত হবে খুব ধীরে। রোগের ক্ষেত্রে যদি পরিসংখ্যান দাঁড় করানো যায়, তখনো এ কথা বলা যায়। আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসা মানে এর বিস্তৃতি এক দিন নাই হয়ে যাবে।’

সূত্র: ওয়ার্ল্ডওমিটার, ফক্সনিউজ

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close