আন্তর্জাতিক

করোনার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি মানুষ বেকার

অনলাইন ডেস্ক :

করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশটিতে সেই সাথে মৃত্যুর সংখ্যা। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত প্রায় ১১ এর কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে । এর প্রভাবে ৩ কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন দেশটিতে।

প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে ধনী দেশ লকডাউন ঘোষণা করে। এর ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশটিতে বেকারত্ব ও কর্মহীনদের সংখ্যা। ভার্জিনিয়া,ইন্ডিয়ান, মিনেসোটা সহ অনেক রাজ্যে মানুষের ঢল নেমেছে রাজপথে লকডাউন প্রত্যাহারের জন্য। তারা মনে করছেন করোনা নয় ক্ষুধার জ্বালায় মরে যাবেন তারা।বিক্ষোভ কারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন খুদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিভিন্ন রাজ্যের গর্ভনরদের বলেছেন লকডাউন শিথিল করার। এমনকি স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে চলমান লকডাউনে যুক্তরাষ্ট্রে এই সপ্তাহে নতুন করে আরো ৪০ লাখ মানুষ বেকারত্বের ভাতার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে বেকারত্বের জন্য ভাতার সংখ্যা মোট ৩ কোটি পেরিয়ে গেছে, শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয় এই তথ্য।

বিশ্লেষকরা আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে দাড়াতে পারে ২০ শতাংশ। যা ১৯৩০ সালে মহা মন্দার পর সর্বোচ্চ হতে পারে।

অর্থনীতি এমন নম্বর মুদ্রণ অব্যাহত রেখেছে যা বিশ্বের প্রত্যেকের থেকে আলোকিত জীবনকে ভয় দেখায়। এমনটা বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন নিউইয়র্ক এমইউএফজির প্রধান অর্থনীতিবীদ ক্রিস রুপকি।

এদিকে দুর্দশা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতেও। আমেরিকান এয়ারলাইন্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২.২ বিলিয়ন ডলারের লোকসানের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এটি ২০১৩ সালে দেউলিয়া হওয়ার পর থেকে প্রথম ত্রৈমাসিক ক্ষতি এবং করোনা ভাইরাস মহামারী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার নগদ লোকসানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

মহামারী দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ খাতগুলির মধ্যে বিমান সংস্থা একটি। সারা বিশ্ব জুড়ে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এই খাতটি। বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পরে ব্রিটিশ এয়ারলাইনস তাদের ১২ হাজার কর্মীকে চাকুরিচ্যুত করতে যাচ্ছে।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে খুচরা বিক্রয় ২০০০ সালে গড়ে ৯.৬ শতাংশ হ্রাস পাবে। এটি ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার লোকসানের করবে। গবেষণা সংস্থা ফররেস্টার বৃহস্পতিবার বলেছে, প্রাক-মহামারী পর্যায়ে ফিরে আসতে চার বছর সময় লাগবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন।

ফোরেস্টারের বিশ্লেষক মাইকেল ও’গ্রাদি বলেছেন, মুদি এবং অপরিহার্য জিনিসের মতো খুচরা পণ্যসামগ্রীর দারুণ ব্যবসা করলেও অন্যদিকে ফ্যাশন, সৌন্দর্য এবং প্রসাধনীগুলির মতো অন্যান্য সামগ্রী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

ফোরেস্টার ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছে, ২০২০ সালে দোকান থেকে অ-মুদি জাতীয় জিনিস বিক্রয় ২০% কমে যাবে। এরফলে 360 বিলিয়ন লোকসান হতে পারে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে ইউরোপের দেশ জার্মানিতেও বেকারত্বের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

জার্মানিতে বেকারদের সংখ্যা এক মাসেই ১৩.২% লাফিয়ে এপ্রিল মাসে ২.6 মিলিয়নেরও বেশি হয়ে গেছে। সরকারী তথ্যে দেখা গেছে, এরফলে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতিতে মহামারীটির প্রভাব পড়বে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close