বাংলাদেশসহযোগিতা

করোনার নমুনা সংগ্রহে প্রতিনিয়ত ছুটে চলছেন ডাক্তার রনি

এম.আর.হাসান সৈয়দপুর,প্রতিনিধিঃ স্যার, আমার ছোট ছেলেটার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এই মুহুর্তে কি করবো বুঝতে পারছি না।
ডাঃ রনিঃ আপনার ছেলেকে নিয়ে অতিসত্বর স্থানীয় হাসপাতালে যান। বাসায় রাখা মটেও ঠিক হবে না।
এভাবেই ভোর চারটা সময় একজন মাকে আশ্বস্ত করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন একজন চিকিৎসক। যিনি নিজের ঘুমকে বিসর্জন দিয়ে এভাবে একজন মাকে আশ্বস্ত করতে পারেন তিনি হলেন ডাঃ আরমান হোসেন রনি। জন্ম সৈয়দপুরের নতুন বাবুপাড়ায়। নিজ শহরের মানুষের সেবা করার ইচ্ছা সেই ছোট বেলা থেকেই। কে জানতো সেই ইচ্ছাটা এভাবে পূরন হবে ৩৯তম বিসিএস এ নিজ উপজেলায় পদায়নের মাধ্যমে।
.
সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজেে। সেখান থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করে চক্ষু বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান।তারপর বিসিএস এর মাধ্যমে তার পদায়নকৃত নতুন কর্মস্থলের ঠিকানা হয় সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
.
যোগদানের তিনমাসের মাথায় করোনা প্রতিরোধ কমিটির টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পান। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) আবু তাহের সিদ্দিকী,মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) আল-আমিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মামুনুর রশিদ।
.
সৈয়দপুরের মানুষের করোনা নমুনা সংগ্রহে ডাঃ রনি প্রতিনিয়ত ছুটে চলছেন গ্রাম থেকে শহরে। শুধু কি তাই! মোবাইলে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা দেওয়া, লকডাউনে যাওয়া সহ অন্যন্যা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন। করোনা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে ভীত হন কি না জানতে চাইলে এ তরুন চিকিৎসক বলেন, তেলাপোকার মতো হাজার বছর বাঁচার চেয়ে, সিংহের মতো একদিন বাঁচাই উত্তম। ভবিষ্যৎ চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ রনি স্বপ্ন দেখেন সারা বিশ্ব একদিন করোনামুক্ত হবে। পৃথিবী আবার তার আগের রুপ ফিরে পাবে।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close