আন্তর্জাতিক

করোনার কাছে কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর মিছিল ও বেকারত্ব বাড়ছে

করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েই চলেছে বেকারত্বের সংখ্যা। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ৩.২ মিলিয়ন মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম অধিদপ্তর এক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে, করোনা ভাইরাস লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে নতুন বেকার ভাতার দাবির সংখ্যা বেড়েছে গত সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩.২ মিলিয়ন। তবে বেকার সুবিধার জন্য নতুন দাবি গত সপ্তাহে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

শ্রম অধিদপ্তর জানিয়েছে, মার্চে শুরু লকডাউন এর ফলে মোট ভাতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ৩৩.৫ মিলিয়ন মানুষ আবেদন করেছেন।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখা যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন ২ হাজার ১২৯ জন। এই নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৬ হাজার ৯২৮ জনে। নতুন আক্রান্ত ২৯ হাজার। এখন পর্যন্ত দেশটিতে বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার। রাজ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নিউইয়র্কে ৪০৬ জনের। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ হাজার ৩৬৫ জনে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হার্ভার্ড-এনপিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাত্র নয়টি রাজ্যই তাদের রাজ্য প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে পর্যাপ্ত কোভিড নাইন্টিন পরীক্ষা চালাচ্ছে এবং ১৫ ই মেয়ের মধ্যে পুনরায় খুলতে পারবে। যে রাজ্য গুলো শক্ত হাতে ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেগুলো হলো, আলাস্কা, হাওয়াই, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা, ওরেগন, টেনেসি, ইউটা, পশ্চিম ভার্জিনিয়া এবং ওয়াইমিং। এই সমস্ত রাজ্যে সমস্ত সংক্রামিত ব্যক্তি এবং তাদের ঘনিষ্ঠ পরিচিতি যারা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের পরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষা করা হয়েছে।

তবে নিউজার্সি, নিউইয়র্ক এবং ম্যাসাচুসেটস সহ অনেক বড় জনসংখ্যা এবং বৃহত্তর কোভিড নাইন্টিনের প্রাদুর্ভাবের কবলিত রাজ্য গুলি ১৫ ই মে নাগাদ শারীরিক দূরত্বের নিষেধাজ্ঞাগুলি তুলতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পরীক্ষা চালাচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন ৯ লাখ করোনা ভাইরাসের পরিক্ষা করা উচিত। সেখানে ২ লাখ ৪৮ হাজারের মতো মানুষ পরিক্ষা করছেন। আর তাই নিউইয়র্ক, নিউজার্সি সহ করোনায় বিপর্যস্ত রাজ্য গুলোতে করোনা পরিক্ষা বাড়াতে হবে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিউজার্সিতে গড়ে প্রতিদিন পরিক্ষা করা হচ্ছে ৬ হাজার ৮শ। অথচ ১৫ মে লকডাউন শিথিল করতে প্রতিদিন ৯৮ হাজার করোনা টেষ্ট করতে হবে রাজ্যটিতে।

এই পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কে গর্ভনর অ্যান্ডু কুমো দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাসে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা নিম্ন অঞ্চলে সাধারণ জনগণের তুলনায় কম হারে সংক্রামিত হয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে। কুৃমো এসময় বলেন, হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাটা হ্রাস পেয়েছে, এটি একটি সুসংবাদ। কারণ এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস।

মহামারী নভেল করোনা ভাইরাস দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখা ব্রিটেনে গত ২৪ মারা গেছেন ৫৩৯ জন। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩০ হাজার ৬১৫ জনে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজারে দাড়িয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, লোকেরা যদি বিধি নিষেধ গুলি অনুসরণ না করে বা আমরা যদি দেখতে পাই যে আর-লেভেল (ভাইরাসের প্রজনন হার) বেড়ে যায়। তবে আমরা আবার নিষেধাজ্ঞাগুলি আরও কঠোর করব। রাব জানান, রবিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, লকডাউন শিথিল করা হবে কিনা তা নিয়ে জাতীর উদ্দেশ্য ভাষণ দিবেন। সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ যাতে অর্থনীতিতে আঘাত হানতে পারে না তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করবেন বরিস জনসন।

ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড আশংকা প্রকাশ করে বলেছে, ৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এছাড়া জুনের তিন মাসের মধ্যে ব্রিটেনের অর্থনীতি ২৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে এবং বেকারত্ব দ্বিগুণ থেকে ৯ শতাংশ এর চেয়ে বেশি হতে পারে।

করোনায় অন্যতম কোণঠাসা হওয়া ইতালিতে নতুন করে মারা গেছেন ২৭৪ জন। মোট এই সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯ হাজার ৯৫৮ জনে। স্পেনে নতুন করে মারা গেছেন ২১৩ জন। এই নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এদিকে এপ্রিল মাসে স্পেনের বেকার মানুষের সংখ্যা ২ লাখের ৮০ হাজাডের বেশি বেড়েছে। ফ্রান্সে ধীরে ধীরে কমছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। নতুন মৃত্যু ১৭৪ জন। মোট ২৬ হাজার ছুই ছুই। সোমবার থেকে ফ্রান্সে লকডাউন শিথিল হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এডুয়াডো ফিলিপে বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপে যাতে মহামারী ভাইরাসটি আঘাত হানতে না পারে সঙ্গে সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। করোনা ভাইরাসের ওষুধ হিসেবে গিলেয়েডের অ্যান্টি ড্রাগ রেমডেসিভিকে অনুমোদন দিয়েছে জাপান।

নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ বাড়ছে ব্রাজিল ও রাশিয়ায়। আক্রান্তের সংখ্যায় জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে রাশিয়া। মোট সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার, নতুন আক্রান্ত ১১ হাজারের বেশি। যদিও মৃত্যুর মিছিল ৮৮, এখনও নিয়ন্ত্রনে আছে। ব্রাজিলে নতুন মৃত্যু ৬০০। মোট মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৩৫ হাজার।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯ লাখ ১৮ হাজার । ভ্যাকসিনহীন চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখের বেশি মানুষ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close