বাংলাদেশ

করোনায় প্রশাসনের খামখেয়ালী|

বাবুল রহমান
কলামিষ্ট,লন্ডন।
২০মে ২০২০

সুস্হ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার নামই হচ্ছে জীবন,আর জীবনের বিপরীত হচ্ছে নিথর প্রাণহীন দেহটা।বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছি আমরা সবাই,মৃত্যুকে বড়ই ভয় করি।মৃত্যু ঠেকাতে গিয়ে উন্নত দেশে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হই কিন্তু তারপরও আয়ুকাল বৃদ্ধি সম্ভব না।

মহামারী কভিড ১৯ এ বিশ্ব যখন স্হবির,মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থাসহ সিনিয়র ডাক্তারের পরামর্শেই সবকিছু লকডাউন সেই ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ সরকারও বসে নেই।সাধুবাদ জানাই কিন্তু বাংলাদেশের লকডাউনে আমরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছি সেটা মুল বিষয়।কভিডে আক্রান্ত মানুষকে সাহস শক্তি দিয়ে যথাযত চিকিত্সা করবে পরিজন এবং কমিউনিটির লোক।এক কথা খুব প্রাসংঙ্গিক বলে বলতে হচ্ছে,উন্নত দেশে পড়শিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব এলাকাতে লিফলেট দিয়ে বলে যাচ্ছে যারা আইসোলেশনে আছেন অথবা সাময়িক আক্রান্ত তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ কিনতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন,আমরা বিনামূল্য সাহায্য দিচ্ছি এমনকি অনেক মানুষ ভলেনটিয়ারের কাজে নাম লিপিবদ্ধ করে রেখেছে।আশ্চর্য্য হলে সত্য বাংলাদেশে কোন আক্রান্ত মানুষের খবর পেলে পুলিশ গিয়ে ধরে নিয়ে আসে,উৎসুক জনতা ভিডিও করে পরিবারের মান মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে দ্বিধাবোধ করেনা,মূহুর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।মনে হয় মস্তবড় এক দাগী আসামীকে আটক করা হলো।

এখন আসি মুল বক্তব্যে বাংলাদেশ হচ্ছে বহু নেতার দেশ,খুব সহজেই নেতা হওয়া যায় তবে তাদের কাজটা কি তারা নিজেই জানেনা শুধু সাদা লম্বা পান্জাবী পরে হাঁটা জানে,শীতকালিন সময়ে সুন্দর একটা চাদরও শোভা পায় কাঁধে। বাহ্ নেতা বাহ্,আপনারা কি দেখেন না আজকের মাওয়া ঘাটের দৃশ্য,সোসিয়েল ডিস্টেন্স কোথায়,ওরাযে সমস্ত গ্রাম ইনফেক্টেড করবে না কে জানে,হাজারো মানুষের মৃত্যুর কারণ হবেনা বলতে পারবেন।
দলনেতা হোক সে কৃষ্ণ বর্ণের তাকে মানতে হয় নতুবা মজলিসের সুন্দর্য্য নষ্ট হয়,সরকার প্রধান হচ্ছেন রাষ্ট্র চালনার মুল প্রদর্শক কিন্তু রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্রের প্রশাসন কি দেখেও না দেখার ভান করছে।মহামারী ছড়িয়ে গেলে কেমনে সামাল দিবেন,আল্লাহ না করুক ইউরোপ আমেরিকার মত হলে রাস্তায় সারিসারি লাশ পড়ে রবে দাফনের মানুষ মিলবে না।

ঈদের আগে সব যোগাযোগ ব্যবস্হার উপর নজরদারি রাখলে এই করুণ চিত্র দেখতে হতোনা,রাষ্ট্রের কথা যদি পাবলিক শুনেনা তাহলে কঠোর পদক্ষেপ কি নেয়া যেত না।কোথায় যেন সামন্জ্যহীনতায় ভূগছে সারাদেশ,এতো নেতা থাকতে কেউ রুখে দাঁড়াতে পারে না।ঐ এলাকার এমপি মন্ত্রী সাহেবের কি কোন দায়িত্ব নেই।মনে রাখবেন আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে যাবে,হয়তো আপনারাও রেহাই পাবেন না।
নেতৃত্ব দিতে না জানলে সরে পড়েন,বাংলাদেশ খুঁজে নেবে সঠিক মানুষ।প্রত্যেকটা জেলা ভিত্তিক মিটিং করে মানুষের জানমালের হেফাজতের নাম হচ্ছে নেতৃত্ব,নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ালেই দায়িত্ব শেষ না।আপনার নিজস্ব এরিয়ার দায়িত্ব কাঁধে নেয়া হচ্ছে একজন সচেতন মানুষের কর্তব্য।সুশীল সমাজের ফেরীওয়ালারা ঘরে বসে প্রাণ বাঁচানো চেষ্টা করছেন,তারা সময় হলে বের হয়ে সরকারের পশ্চাদে আঙ্গুল দিয়ে বলবেন কি কি ভুল করছে।আয়ত্বের বাহিরে চলে গেলে কে বাঁচবে,কার পরিবারে শোকের মাতম হবে বলা যাবেনা।
মানুষগুলো কেন জানি বুঝে না বহির্বিশ্বের এই অবস্হা দেখে,যেখানে উন্নত সেবা থাকার পরও হিমশিম খাচ্ছে।
সরকারের সব ব্যবস্হা ম্লান হয়ে যাবে যদি অবস্হা বেগতিক হয়,দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।আজকের এই কঠিন পরিস্হিতে সরকার প্রশংসার দাবিদার,পঞ্চাশ লাখ পরিবারে হাতে পঁচিশ শত টাকা উপহার দেয়া কিন্তু তারমধ্যেও নাকি অব্যবস্থাপনা চোঁখে পড়েছে,কারা ঐ পঁচিশ শত টাকার উপর নজর দিয়েছে,তাদের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেন।তাদেরকে রাষ্ট্র বা দলের আশপাশ থেকে সরিয়ে নিয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্হান করে দেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি পারবেন,দেশকে বাঁচাতে হলে চিরুনী অভিযান দরকার,এরা দেশের শত্রু দলের শত্রু।
লকডাউনে দোকানপাট শপিংমল বন্ধ, বাস লঞ্চ দূরপাল্লার গাড়ি কেন বন্ধ হলোনা,কার ইশারায় এহেন কাজ চলছে।আল্লাহের কোন মেহেরবাণীতে এখনো দেশের মানুষ সুস্হ,তেমন আক্রান্তের খবর মিলছেনা তারমানে নয় সরকার বা দেশ রেহাই পেয়ে গেলো,আঘাত আসতে সময় লাগবেনা।বিশেষজ্ঞদের মতে সরকারের এই ঢিলেঢালা ব্যবস্হাপনা প্রাণহানীর প্রধান কারণ হতে পারে,নির্বাক হয়ে দেখতে থাকলে রোড জোন হয়ে যাবে এবং এধরণের নমণীয়তা কোন অবস্হাতেই মঙ্গলজনক হবেনা।সরকারের অদক্ষতার খেসারত বিশাল জনগোষ্ঠি বয়ে বেড়াবে,রাষ্ট্র তার প্রতিটি সেক্টরের তদারকি করে মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।গ্রামমুখী জনতাকে যাওয়া থেকে বিরত রেখে মহামারী আয়ত্তে রাখা সম্ভব।এইসব উম্মাদ মানুষদের কঠোর হস্তে দমন না করলে এবং লঞ্চ বাস মালিকদের আইনের আওতায় না আনলে মহাবিপদ হয়তো বা অপেক্ষা করছে এই জাতির জন্য।সরকারের এই শিথিলতার পেছনে অনেকেই বাস লঞ্চ মালিকের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি যা সরকারের ভিতরেই ঘাপটি মেরে বসা কিছু অসাধু নেতার নগ্ন হস্তক্ষেপ।এরা সবসময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই তাদের নীতিবহির্ভূত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে,এমনকি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেশে অদ্ভুত পরিস্তিতির সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য।দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে প্রশাসন ও নেতা কর্মিদের সতর্ক থেকেই পরিস্হিতি সামাল দিতে হবে এবং সাইক্লোনে যাতে প্রাণহানী না ঘটে সেদিকে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে।আমাদের সতর্কতা আল্লাহ কবুল করে এইসব বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।এই পৃথিবী আবার করোনা মুক্ত হবে,আমরা সবাই ঈদের নামাজ একসাথে পড়বো যদি এ যাত্রায় বেঁচে যাই।
ঈদকে সামনে রেখেই সরকারের নতুন নির্দেশনা এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ঘরমুখি মানুষদের বিরত রাখতে পারলেই জাতি সুফল পাবে।
জয়হোক বিশ্ব মানবতার।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close