বাংলাদেশ

এদের ‘কুকুরের চেয়েও অধম’ বললে হয়ত কুকুরেরও অপমান হবে

মানবতা’ শব্দটা মানবীয় গুণের মধ্যে পড়ে। কিন্তু পশুপাখির ক্ষেত্রে একে কি শব্দের দ্বারা প্রকাশ করে তা আমার জানা নেই।

অবলা প্রানীদের প্রতি সবসময়ই অন্যরকম একটা ভালোলাগা, ভালোবাসা কাজ করে আমার। আমার বলতে আমার পরিবারের চারজনেরই। তাই ছোটোবেলা থেকেই বাড়িতে বিড়াল,কুকুর পোষাটা এক ধরনের শখে পরিনত হয়। আব্বু আম্মু মাঝেমাঝে সতর্কতার জন্য ঝাড়ি টাড়ি দিলেও কখনো নিষেধ করেনি।
যাহোক, একটা কুকুর আমাদের বাড়িতে গত তিনছর ধরেই আছে৷ যদিও আমরা ওকে নিজে আনিনি,ওই কিভাবে যেনো আমাদের বাড়িতে এসে পোষ মেনে গেছে,এখন বলা চলে আমাদের পরিবারেরই একজন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে আছে তা সবাই জানি৷ লকডাউনের কারনে গরীব,মধ্যবিত্তরা যেমন বিপদে রাস্তায় থাকা পশুগুলি আরো বড় বিপদে আছে। বাজার দোকান পাট সব বন্ধ,ওদেরকে রুটি বিস্কিট ছুড়ে দেওয়ার মত তেমন কেউ নেই। আমাদের বাজারের কুকুরগুলাকেও দেখি রাস্তার উপর পেট মাটিতে লাগিয়ে শুয়ে আছে। দুপুরবেলা দেখলাম বাজারের একটা কুকুর আমাদের বাড়িতে এসে শুয়ে আছে। সম্ভবত কিছু খাবারের আশায়। আমাদের কুকুরটার সাথে একই বাটিতে খাওয়া দিয়ে ওকে কিছুক্ষন যাবৎ ডাকলাম। দেখি কাছে আসলেও বেশি কাছে আসতে সাহস পাচ্ছিল না। তাই আমি সরে গেলাম, একটু দূরে গিয়ে লক্ষ করতেছিলাম ওরা কি করে। দেখলাম আমাদের কুকুরটা একটু করে খেয়ে বারবার ঐ কুকুরটার দিকে দৌড় দিচ্ছে,ওকেও খেতে আসতে বলতেছে। যখন দেখল ও আসছে না,তখন নিজে অর্ধেক খেয়ে সরে গিয়ে বাকিটা ওকে খেতে দেওয়ার জন্য যায়গা করে দিছে।

ঘটনাটা দেখার পর চিন্তা করলাম,একটা পশু যার মধ্যেও অন্তত দয়া-মায়া,মানবতাবোধ নামে কিছু আছে। অভুক্ত স্বজাতিকে খেতে দেওয়ার জন্য নিজের ভাগেরটা শেয়ার করছে আর আমাদের সমাজের কিছু মানুষ,যারা কিনা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে নিজেদের দাবী করে তারাই জাতির এই বিপদের সময়েও গরীবের হকের জিনিষ মেরে খাচ্ছে,ত্রানসামগ্রী গুদামজাত করে রাখছে।
এদের আসলে কুকুরের সাথে তুলনা করে ‘কুকুরের চেয়েও অধম’ বললে হয়ত কুকুরেরও অপমান হবে।

লিখেছেন : তানভীর পাটওয়ারী

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close