আন্তর্জাতিক

উহানের ল্যাবই করোনা সৃষ্টি করেছে :ট্রাম্প

করোনা ভাইরাসে দিশেহারা একবিংশ শতাব্দীর উন্নত বিশ্ব। করোনার কাছে রীতিমতো অপ্রতুল যুক্তরাষ্ট্র – যুক্তরাজ্য কিংবা ইতালি, স্পেনের চিকিৎসা ব্যবস্থা। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমন ও মৃত্যুর সংখ্যা। নিউইয়র্ক, লন্ডন,প্যারিসের মতো শহরগুলোতে সুনশান নীরবতা। নীরব-নিস্তব্ধ সারা বিশ্ব। দেশে দেশে লকডাউন জারি থাকায় চার দেয়ালে বন্দী ২৫০ কোটি মানুষ।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু। তাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন যেন মৃত্যুপুরিতে রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায়ও অব্যাহত মৃত্যুর মিছিল। ইউরোপের দেশগুলোতে তুলনা মূলকভাবে ভাইরাসটির প্রকোপ কমলে যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত মৃত্যুর মিছিল।

স্পেনে ২০ মার্চের পর লকডাউন কার্যকর হওয়ার পর সর্বনিম্ন মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ২৮৬ জন। নতুন আক্রান্ত আড়াই হাজার এর বেশি। এই নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৯ হাজার। মহামারি কোভিড নাইন্টিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৫৪৩ জনের।

করোনা ভাইরাসের কাছে নাজেহাল হওয়া ইতালিতেও কমছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। নতুন করে মারা গেছেন ২৮৫ জন, নতুন আক্রান্ত মাত্র ১ হাজার ৮শ। মোট মারা গেছেন ইতালিতে ২৭ হাজার ৯৬৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

ইউরোপে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির আশংকায় থাকা ব্রিটেনে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৬৭৪ জন। এসময় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার মানুষ। ব্রিটেনজুড়ে নভেল করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ২৬ হাজার ৭৭১ হন। আর আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল পুত্রসন্তানের বাবা হওয়া প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ব্রিটেন করোনা ভাইরাস মহামারীর শিখর পেরিয়ে গেছে এবং নীচের দিকে যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাস থেকে নিজে বেচেঁ ফিরায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে বরিস জনসন বলেন, আমি খুব, খুব ভাগ্যবান ছিলাম। করুণভাবে হাজার হাজার মানুষ আমার চেয়ে কম ভাগ্যবান হয়েছে। এসময় তিনি বলেন মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারের উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত। ধন্যবাদ জানান এনএইচএস কর্মীদের।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন যে তিনি কীভাবে অর্থনীতি পুনরায় চালু করবেন, বিদ্যালয় পুনরায় চালু করবেন এবং লোকদের কাজে ফেরাতে সহায়তা করবেন সে বিষয়ে তিনি আগামী সপ্তাহে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করবেন।

বিশ্বজুড়ে চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল যুক্তরাষ্ট্রে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। অদৃশ্য ভাইরাসটি মৃত্যুপুরি বানিয়ে ফেলছে মার্কিন মুলুক কে। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ২ হাজার ২০১ জন । এই সময় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৫৬ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ৯৫ হাজার।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য নতুন করে মারা গেছেন ৩০৬ জনের। রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৩ হাজারের বেশি মানুষ। কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার।

করোনা ভাইরাসের কাছে যখন যুক্তরাষ্ট্র রীতিমতো কোনঠাসা তখন আবারও করোনা ভাইরাস চীন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার রীতিমতো ট্রাম্প বলেছেন যে উহান ল্যাবকে করোনা ভাইরাস তৈরি করার প্রমাণ দেখেছেন তিনি।

হোয়াইটে হাউজে সাংবাদিকদের প্রমান আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, হ্যাঁ, নিশ্চয় এবং আমি মনে করি যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের নিজেদের জন্য লজ্জা পাবে কারণ তারা চীনের জনসংযোগ সংস্থার মতো।

এর আগে কয়েক ঘন্টা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত বলেছে, ভাইরাসটি মানুষের সৃষ্টি বা জিনগত নয় বলে ঘোষণা দেয়। তবে গোয়েন্দা সংস্থাটি তদন্ত করে জানানে প্রাণঘাতি ভাইরাসটি কোনো প্রাণী থেকে ছড়ালো নাকি উহান ল্যাব থেকে ভুলবশত ছড়ালো।

এদিকে গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেছিলেন, নভেম্বরে নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। অবশ্য চীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সাথে চীন এই ভাইরাস তৈরি করেনি বলে বেইজিং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ দেশের করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাব কাঠাতে জি-সেভেন ভুক্ত দেশগুলো ঐক্যমতে পৌছেছে বলে জানিয়েছেন জাপানের অর্থমন্ত্রী তারো আসো। আর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন,অর্থনৈতিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে থাকবে।

জাপানের অর্থমন্ত্রী তারো এসো বলেন, সেভেন ফিনান্সের নেতারা বৃহস্পতিবার টেলিফোনে সম্মেলনে করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অর্জনের জন্য নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজনে একমত হয়েছেন।

জাপানের সংসদ মহামারী আঘাত হানায় জাপানের অর্থনীতিত কে রক্ষার ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার প্যাকেজ তহবিল সরবরাহের জন্য একটি পরিপূরক বাজেট অনুমোদনের পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) এর চিফ ক্রিস্টিন লাগার্ডে বলেছেন, ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণে ‘অভূতপূর্ব পতন’ মোকাবিলার জন্য ২০২১ সালের মধ্যে সঙ্কট-লড়াই মোডে থাকার প্রত্যাশা করে।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমেরিকানদের অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং করোনাভাইরাস মহামারীর দীর্ঘকালীন প্রভাবের বর্ধিত সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

বারাক ওবামা বলেন,অর্থনৈতিক প্রভাবগুলি ছড়িয়ে পড়তে থাকবে। আমরা যে প্রভাব পড়তে চাইছি তা আমরা দেখিনি। আমি বলছি যে লোকদের ভয় দেখাতে হবে না, তবে লোকেরা এইটিকে ম্যারাথন হিসাবে বিবেচনা করবে, স্প্রিন্ট নয়৷ ম্যাসাচুসেটস গভর্নেল চার্লি বেকার (আর) পরীক্ষা ও কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংয়ের জন্য যে উদ্যোগগুলি শুরু করেছে সেগুলির প্রশংসা করে ওবামা কয়েকটি সংকট নিয়ে কিছু রাজ্য যে প্রচেষ্টা নিয়েছে তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ওবামা বলেছেন, আমি মনে করি এই মুহূর্তে গর্ভনররা ফেডারেল সরকারের চেয়ে বেশি সক্রিয় ও কার্যকরী।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close