বিশ্ব সংবাদআন্তর্জাতিক

আরবের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান পাঠাচ্ছে আরব আমিরাত

আজ-কাল,ডেস্ক ; অষ্টম শতাব্দীর পূর্বে, বর্তমান সময়ে উন্নত দেশগুলোর চেয়েও অগ্রসর ছিলেন আরব দেশের বিজ্ঞানীরা। তবে কালের পরিবর্তে আগের সেই গবেষণা,বিজ্ঞান যেন ভুলতে বসেছে মুসলিম দেশগুলো।বিজ্ঞান থেকে পিছিয়ে গেছে বহু বছর। কিন্তু এবার মুসলিম বিজ্ঞানীদের হারোনা গৌরব ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে আরব আমিরাত। নতুন একটি তথ্য জানার জন্যে মঙ্গলগ্রহে অভিযানে যাচ্ছে দেশটি।বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, মানবহীন মহাকাশযানটির নাম “আমাল”।পাঁচ বছরের মতো সময় নিয়ে তৈরি করেছে আরব আমিরাত। যাতে আগামী সপ্তাহে জ্বালানি তেল ভর্তি করা শুরু হবে।
সবকিছু যদিঠিক তাকে তাহলে ৪৯৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মঙ্গলগ্রহে পৌঁছাতে আমাল মহাকাশযানের সময় লাগবে আনুমানিক ৭ মাস।১৪ জুলাই জাপানের দ্বীপ তানেগোশিমা থেকে আমালের উৎক্ষেপণ করার কথা। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সকল প্রকৌশলীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে। যার জন্যে একবার এই যাত্রা পিছিয়েছে।


মঙ্গলগ্রহে একবছর হয় ৬৮৭ দিনে।এই একবছর সময় ধরে আমাল মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে।মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথ একবার এক ঘুরতে সময় লাগবে ৫৫ ঘন্টা।আমালে তিন ধরনের (সেন্সর) থাকবে।যার কাজ হবে মঙ্গলগ্রহের জটিল বায়ুমন্ডল পরিমাপ করা।আমালটিতে খুব শক্তিশালী রেজুলেশন সম্বলিত একটা (মাল্টিব্যান্ড) ক্যামেরা রয়েছে। যা সূক্ষ্ম সব বস্তুর পিকচার তুলতে সক্ষম। মঙ্গলগ্রহের বায়ুমন্ডলের উপরিভাগ এবং নিম্নভাগ পরিমাপ করতে থাকবে (ইনফ্রারেড স্পেকটোমিটার)। যা তৈরি করেছে আমেরিকার অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়। ৩য় আরেকটি সেন্সর মঙ্গল গ্রহের অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মাত্রা পরিমাপ করবে।মঙ্গল গ্রহের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে সব তথ্য সংগ্রহ করবে (আমাল) মহাকাশযান। প্রকল্প পরিচালক সারাহ আল আমিরি বলেন, এই মিশনের অন্যতম কাজ হলো পানি তৈরিতে দরকার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মঙ্গল গ্রহের বায়ুমন্ডলে কেন থাকতে পারছে না তা বোঝার চেষ্টা করা।


অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সায়েন্স মিউজিয়াম গ্রুপের পরিচালক স্যার ইয়ান ব্ল্যাচফোর্ড জানান,এর আগে যত মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হয়েছে সেগুলো ভূতত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু এবার মঙ্গল গ্রহের জলবায়ু সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে।মহাকাশবিজ্ঞানে আরব আমিরাতের যোগসূত্র নতুন কিছু নয়।গতবছর রাশিয়ান একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে গিয়েছিলেন আমিরাতের প্রথম কোন মানুষ। তবে প্রথম আরব হিসেবে সৌরজগতে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল সাদ।১৯৮৫ সালে তিনি মার্কিন একটি মহাকাশযানে করে গিয়ে ছিলেন।বর্তমানে আরব আমিরাতের এই মিশন যদি সফল হয়ে যায় তবে, বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিবে দুবাই।সেই সাথে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিবে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং গবেষণার দিক থেকে প্রথম সারিতে ছিলেন মুসলিম বিজ্ঞানীরা।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close