আন্তর্জাতিক

আমেরিকায় ১৬টি রাজ্যে কারফিউ, চলছে সহিংস বিক্ষোভ |

সুহেলি রিপা, নিজস্ব প্রতিনিধি; সাবেক বাস্কেট বল তারকা ও কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে।২৫ মে সন্ধ্যায় জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ প্রতারণার অভিযোগে। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পর একজন পুলিশ অফিসার হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান ৪৬ বছর বয়স্ক জর্জ। এ ঘটনায় একজন প্রত্যক্ষদর্শী ১০ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেন। যা মূহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করোনা উপেক্ষা করে প্রতিবাদে সরব হন হাজার হাজার মানুষ।

‘আমি শ্বাস নিতে পারিছ না’ -এইরকম শ্লোগানকে ধারণ করে ৩০টি শহরে চলে আন্দোলন। শুক্রবারের পর শনিবারও রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করে ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ফুঁসে ওঠা বিক্ষোভকারীরা ।বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দেন। সারা রাত মিনোপোলিস পুলিশ স্টেশনের আশপাশে বিক্ষোভ করেন। এবং বিভিন্ন দোকানপাটে লুটপাট ও করেন। ভাঙচুর করেন যানবাহন ও বিভিন্ন ভবন। বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ হয়ে শুক্রবার দেশটির ফেডারেল প্রটেক্টিভ সার্ভিসের এক কর্মকর্তা নিহত ও হয়েছেন ।

এমতাবস্থায় বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হতেই লকডাউন করে দেওয়া হয় হোয়াইট হাউস। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ‘পুলিশ এভাবে কারো সঙ্গে নির্মম আচরণ করতে পারে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল কৃষ্ণাঙ্গের ওপর এ ধরনের নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ‘যারা আন্দোলন করছেন তারা লুটেরা ও নৈরাজ্য চায়।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৬টি রাজ্যের ২৫টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। শহরগুলোর মধ্যে বেভারলি হিলস, লস অ্যাঞ্জেলস, ডেনভার, মিয়ামি, আটলান্টা, শিকাগো, মিনিয়াপোলিস, ফিলাডেলফিয়া, কলম্বাস, সল্ট লেক সিটি, সিয়াটল উল্লেখযোগ্য। লস অ্যাঞ্জেলসে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা থেকে রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি হয়। এ সময় শহরে থাকা সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়।

জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ ডেরেক শভিনকে সোমবার হাজির হতে হবে আদালতে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close