আন্তর্জাতিক

আফ্রিকা ও মধ্য-উত্তর আমেরিকা নিয়ে চিন্তিত ডব্লিউএইচও

অনলাইন ডেস্ক :

গত বছর ডিসেম্বরে চীনের উহানে সর্বপ্রথম ধরা পড়ে সংক্রমণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটিতে মারা যান চীনে ৪ হাজার ৬৩৩ জন। আক্রান্ত হন ৮২ হাজার মানুষ। চীন ছাড়িয়ে মহামারী করোনা ভাইরাস বাসা বেধেছে ইউরোপ-আমেরিকায়৷ ভয়াবহ রূপ দেখছে পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত ও ক্ষমতাধর দেশ গুলো। রীতিমতো নাজেহাল যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন কিংবা ফ্রান্স। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাদে ইউরোপের দেশগুলোতে করোনার ভয়াল প্রকোপ অনেকটা কমে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, করোনা ভাইরাসের পরবর্তী মহামারী রূপ দেখতে পারে আফ্রিকা-মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। এ নিয়ে সতর্কতা বাণী দিয়েছে সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচও এর জরুরি বিভাগের বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান বলেন, আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ এখনো সংক্রমণের উর্ধ্বগামী পথ দেখছে। যদিও তাদের ওখানে বড় সমস্যা দেখা যায়নি তবে সতর্ক থাকতে হবে।

ডব্লিউএইচও এর জরুরি বিভাগের বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ মহামারী থেকে উদ্ভুত হতে শুরু করেছে এবং সাবধানতার সাথে কিছুটা স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে শুরু করেছে, তবে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকবে

এখন অনেক দেশ করোনার কবলে রয়েছে বলে
মাইক রায়ান বলেন, অনেক দেশ এখনো ঝড়ের কবলে রয়েছে অন্যরা কিছুটা হলেও এই রোগটিকে আটকানোর সম্ভব করেছে। সেই দিক থেকে আশা আছে।

বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটির ভিন্ন রূপ ধারণ করছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী স্তরে পরিস্থিতি এখনো খুব গুরুতর, তবে রোগের ধরণ এবং ভাইরাসটির প্রকোপ এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খুব আলাদা। আমরা যা শিখছি তা হল এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং এটি করার নতুন উপায় এবং চূড়ান্ত সতর্কতা ও সতর্কতার সাথে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন শুরু করা সম্ভব।

ডিসেম্বরে চীনে প্রথম ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ২১০ টির দেশ ও অঞ্চলে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। প্রাণহানি বাড়ছে পাল্লা দিয়ে, ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত এখনো হয়নি। এই নিয়ে রায়ান বলেন, আমরা আমাদের জীবনের লড়াইয়ের মাঝখানে আছি আমরা সবাই বিশ্বজুড়ে। আমাদের এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্ধিত ঝুঁকি হতে চলেছে যেখানে আমাদের কাছে একটি নিরাপদ এবং কার্যকর ভ্যাকসিন প্রয়োজন।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বেশ কয়েকটি দেশ সাফল্য পেয়েছে। চীন,দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড সহ বেশ কয়েকটি দেশ। সেই দেশগুলোর উদাহরণ ঠেনে মাইক রায়ান বলেন, দেশগুলোতে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আরো বলেন, ইতোমধ্যে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা এই রোগের অত্যন্ত তীব্র মহামারী থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে এবং গত কয়েক মাস ধরে আরোপিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের উপর কঠোর বিধিনিষেধ থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

কয়েক মাসের তীব্র লকডাউন শেষে, রোববার ইতালি এবং স্পেনের লোকেরা কিছুটা বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করতে শুরু করেছিল।অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে যে তারা ৬ মে থেকে সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলি আরো শিথিল করবে, যাতে পর্যায়ক্রমে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হবে।

এই বিষয়ে ডব্লিউএইচও বিশেষজ্ঞ বলেন, যে কোনো সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করতে চায় তবে তাদের চূড়ান্ত সতর্কতার সাথে এটি করা উচিত। শুক্রবার ডব্লিউএইচও জানিয়েছে যে দেশগুলোকে অবশ্যই ধীরে ধীরে লকডাউন তুলতে হবে, যদিও কোভিড নাইন্টিন এর জন্য নজরদারী থাকবে এবং ভাইরাসের সংক্রমণ আবারও দেখা দিলে বিধিনিষেধ পুনরুদ্ধার করতে প্রস্তুত।

তবে ভাইরাস থেকে এখনই চূড়ান্ত মুক্তি নয়
ভেবে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি। রায়ান বলেন, যে ভাইরাসকে একেবারে
পরাজিত করতে পারে তা নয়, তবে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি যেখানে আমাদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবন আবার শুরু হতে পারে ভাইরাসের উপর আমাদের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলকে ভাবা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের পরবর্তী হটস্পট। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশটিতে মৃত্যু ও সংক্রমণ। লকডাউনের ফলে খেটে খাওয়া মানুষেরা পরেছেন বড় ধরনের বিপদে। দেশটিতে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ২৭৫ জন৷ মোট মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার। ইকুয়েডরের এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৫ শ মানুষ। নতুন মৃত্যু ১৯৩ জন।আর আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার। পেরুতে নতুন মৃত্যু ৮৬ জন,মোট মৃত্যু ১২শ ৮৬ জন। আক্রান্ত ৪৫ হাজার। এছাড়া চিলি,মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলাতেও বাড়ছে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণ।

করোনা ভাইরাসে দারিদ্র প্রবণ মহাদেশ আফ্রিকাতেও বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। ঘানা,সিয়েরে লিওন, বুর্কিনা ফাসো সহ দুর্বল দেশগুলোতে ক্রমেই নাজুক হচ্ছে পরিস্থিতি। এর ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close