বাংলাদেশ

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক ঃ

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর সাথে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন,দেশের একটি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। করোনা মোকাবেলায় এসময় তুলে ধরেন সরকারের বিভিন্ন উদোগ্য। বলেন,সারা বিশ্বে এর আগে এররকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।

শুরুতেই শেখ হাসিনা স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ১৫ আগষ্টের শহীদ ও জাতীয় চার নেতা সহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেী শহীদদের। করোনা ভাইরাসে মৃত্যু বরণ করা সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। সারা বিশ্বের ও দেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা সবাই সুরক্ষিত থাকতে হবে। তারপরও আমাদের দেশেী অনেকেই এটা মানতে চান না, যার ফলো সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছেন। তবে এখানে দুষ দেওয়ার কিছু নেই কারন এটা একটা ভাইরাস যেটার লক্ষ্মণ দেখাও যায় না, লক্ষন বোঝাও যায় না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যাতে সংক্রমিত না হয় সেজন্য বাতিল করা হয়েছে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান সহ পহেলা বৈশাখ সব অনুষ্ঠান।

ইত্যিমধ্যে করোনা ভাইরাস থেকে মানুষকে বাচাঁতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে একটি জাতীয় কমিটি করা হয়েছে,যেটা ইউনিয়ন পর্যন্ত অনবরত কাজ করার। তাছাড়া আইইডিসিআর এর অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ধন্যবাদ জানান দেশেরএই ক্রান্তিলগ্নে দিনরাত্রি কাজ করে যাওয়া ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদে। ধন্যবাদ জানান পুলিশ, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনী কে।

অর্থনীতির চাকা যাতে সচল থাকে সেজন্য দীর্ষমেয়াদি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে বলে এসময় সরকার প্রধান বলেন,আমরা যে প্রণোদনা দিয়েছি,এটা শুধু এই বছরের জন্য নয়,আগামী তিন বছরের জন্য। যাতে আমাদের দেশের মানুষ কষ্ট না পায়।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা ইত্যিমধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এবং আমরা কৃষিখাতে মাত্র ৪ % হারে ঋন দিচ্ছি। মানুষের জীবন যাতে স্থবির না হয়ে পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ  : প্রধানমন্ত্রী
ছবি ঃ সংগৃহীত ফাইল ছবি

তিনি আরো আশংকা করে বলেন বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকে এই সময়ে বাংলাদেশকে বাঁচাতে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে যাতে খাদ্য সংকটে না পড়তে হয় সে লক্ষে উৎপাদন বাড়ানো হোক,এবং উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। সামনে রোযা তাই সেসময় যেন খাদ্য সংকট বা কোনো সমস্যা দেখা না দেয় সেদিকে খেয়াল আছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

আর করোনা ভাইরাসের যাতে সংক্রমণ না বাড়ে সেদিকে সবাইকে সচেতন আহবান জানিয়ে বলেন, এটা একান্ত ভাবে অপরিহার্য। সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে যে সমস্ত নির্দেশিকা যাচ্ছে সেগুলো মেনে চলা। একই সাথে প্রত্যকে জেলা একজন করে সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ত্রান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা গুলি যথাযথ ভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য। তারা সব জেলার খোঁজখবর রাখবেন এবং একই সাথে সেই রিপোর্ট আমাকে দিবেন।

এসময় আওয়ামিলীগে ইউনিয়ন পর্যন্ত নেতাদের আহবান করেন, যারা ত্রাণ পাওয়ার
কথা তাদেরকে দেওয়ার জন্য। অনেকেই পিপিই পড়ে হাটছেন বলে তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে আমরা ডাক্তার-নার্সদের কী দিব।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close